
স্বঘোষিত মাদক ব্যবসায়ী আকলিমা বেগম (৪৫)। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সর্বত্র মাদকের বিস্তার ঘটিয়েছেন ঐ নারী। এলাকার যুব সমাজসহ নানা বয়সী বহু মানুষ তার ঐ বিষাক্ত মাদকের থাবায় পথ হারাতে বসেছে। এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও থানা-প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মাসের পর মাস ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন এই আকলিমা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাকে তেমন কোনো বাধার মুখে পড়তে হয় না। তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ এলেও অজানা কারণে নীরব ভূমিকা পালন করে প্রশাসন। এক-দুবার আটক করলেও থানা থেকেই আবার তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে মাদকসহ ধরা পড়ে এলাকাবাসীর কাছে একাধিকবার ভালো হয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রতিবারেই তা ভঙ্গ করেছেন আকলিমা। পরে আবার নতুন গতিতে মাদক ব্যবসা শুরু করেছেন। অনেক সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধেই তিনি অবস্থান নিয়ে নানা অভিযোগ খাড়া করেছেন।
সম্প্রতি একই কাজ করেছেন আকলিমা। গত শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে মুকসুদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সেখানে তিনি দারিদ্র্যের কারণে ও স্বামীর অসুস্থতার সময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে লিখিতভাবে তুলে ধরেন। সে সময় তিনি মহারাজপুর গ্রামের পূর্বপাড়ার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ধরেন।
এদিকে আকলিমার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মহারাজপুর গ্রামের পূর্বপাড়ার গণ্যমান্য ঐ ব্যক্তিরা। বুধবার ( ৮ এপ্রিল) দুপুরে মুকসুদপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা অভিযোগ করেন- লিটন ফকিরের স্ত্রী আকলি বেগম (আকলিমা বেগম) গত ৫ এপ্রিল মুকসুদপুর উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করে অসত্য, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় তাদের নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশিত হয়।
বক্তারা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সুনামের সঙ্গে বসবাস করে আসছেন এবং সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছেন। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে তাদের সামাজিক ও পারিবারিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন- এ ধরনের অপপ্রচার শুধু ব্যক্তিগত মানহানি নয়; বরং এলাকায় অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- খোন্দকার নজরুল ইসলাম, দেলোয়ার বেগ,কবির মাতুব্বর প্রমুখ। তারা মহারাজপুর গ্রামের পূর্বপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, আকলিমা বেগম নামে ঐ নারীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার যে অভিযোগ, তা আমি লোকমুখে জেনেছি। তবে তার বিরুদ্ধে লিখিত কোনো অভিযোগ বা মামলা নেই। আমরা চেষ্টা করছি, সমাজের সব স্তরের মানুষকে নিয়ে মাদকসহ আইনবিরোধী কাজকর্ম থামাতে।
তিনি আরো বলেন, সবার মধ্যে সচেতনতা দরকার। আইনের প্রতি সম্মান জানানো দরকার। সমাজে নেতিবাচক কাজ প্রতিরোধে সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন সামনে থেকে এসব কাজ করে যাচ্ছে।