
প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদের মুখোমুখি অবস্থান আরও তীব্র হওয়ায় টানা পঞ্চম দিনের মতো কার্যত অচল থাকল ভারতের লোকসভা। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের বিক্ষোভের মুখে শুক্রবারও বক্তব্য রাখতে পারেননি বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভারতের চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে লোকসভার অধিবেশন। কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থান নেয়। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, সংসদে আলোচনা শুরুর আগে শর্ত আরোপ করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ইতিবাচক বার্তা নয়।
দিনের প্রথম দফার মুলতবির পর অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ করে বলেন, সরকার শুরু থেকেই প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করতে প্রস্তুত। তার দাবি, বিরোধী শিবিরের অনেক সদস্যই আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী। তাই রাহুল গান্ধীর উচিত নিজের দলের সদস্যদের আলোচনায় অংশগ্রহণে রাজি করানো।
রিজিজু বলেন, আলোচনার আগে বিভিন্ন শর্ত আরোপ করা কিংবা অজুহাত দেখিয়ে বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়া দেশের মানুষের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে সংসদে খোলামেলা আলোচনা হওয়াই গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অংশ।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের লক্ষ্যে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতে মামলা পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের খসড়া শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের কথাও জানান তিনি।
সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ অনশনের পর সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তার কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। তবে সরকারের এই অবস্থানে সন্তুষ্ট নয় বিরোধীরা। তাদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে আগে পদত্যাগ করতে হবে। এরপরই সংসদে আলোচনা হতে পারে।
অধিবেশন চলাকালে কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলের সদস্যরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
এ সময় রাহুল গান্ধী বক্তব্য রাখার সুযোগ চাইলে অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী জগদম্বিকা পাল জানান, মন্ত্রীরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের পর তাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু বিরোধীদের বিক্ষোভ থামেনি। একপর্যায়ে অধিবেশন সোমবার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হলে রাহুল গান্ধীর আর বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।
গত পাঁচ দিন ধরে প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের ধারাবাহিক বিক্ষোভে লোকসভার কার্যক্রম বারবার স্থগিত হচ্ছে। এতে আইন প্রণয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
দিনের শুরুতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা আসন্ন কারগিল বিজয় দিবস উপলক্ষে শহীদ সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তবে তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই বিরোধী সদস্যরা আবারও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান শুরু করেন।
স্পিকার স্মরণ করিয়ে দেন, সংসদের বিধি অনুযায়ী প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস তিনি আগেই দিয়েছেন। তবুও বিরোধীরা অবস্থান থেকে সরে না আসায় শুক্রবারও কার্যত কোনো কার্যক্রম পরিচালনা ছাড়াই লোকসভার অধিবেশন শেষ হয়।
প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদের এই অচলাবস্থা কবে কাটবে, তা এখনো অনিশ্চিত। সরকার কঠোর আইন প্রণয়নের প্রস্তুতির কথা জানালেও বিরোধীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে একচুলও সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি। ফলে আগামী সপ্তাহেও লোকসভায় একই ধরনের উত্তেজনা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।