
নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেই কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বেড়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের চীন সফরের ঠিক আগে উত্তর কোরিয়া সাগরের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে সাগরে পতিত হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করছে এবং সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জানিয়েছে, এই উৎক্ষেপণগুলো যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্র দেশ বা সেনাদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি।
জাপান জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি যথাক্রমে ৯০০ ও ৯৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছে। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেন, “উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আমাদের দেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং উন সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অস্ত্র কারখানা ও পারমাণবিক চালিত সাবমেরিন পরিদর্শন করেছেন। তিনি অস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সিউলের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল মনে করেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ মূলত চীনের উদ্দেশ্যে বার্তা বহন করে, যাতে বেইজিং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক না বাড়ায় এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে চীনের অবস্থানের বিরোধিতা করে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া নিজেদের শক্ত অবস্থান দেখাতে চেয়েছে।
রোববার সকালে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানায়, প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিং পৌঁছেছেন। তাঁর সঙ্গে ২০০ জনের বেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি রয়েছেন। সফরে সরবরাহ ব্যবস্থা, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়ে আলোচনা হবে। লি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার বৈঠকে বসবেন।
দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, বেইজিং সফরে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টিও আলোচনার মধ্যে থাকবে। সফরের আগে সাক্ষাৎকারে লি জে-মিয়ং তাইওয়ান প্রসঙ্গে ‘এক-চীন নীতি’ মেনে চলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং চীন-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কের জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।