
দেশের ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অনিয়মের বিচার দাবি করেছে আইনজীবীদের সংগঠন ‘ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশ’। একই সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে এনে আমানতকারীদের টাকা পরিশোধের দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে সিন্ডিকেট তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এর ফলে এখন সাধারণ আমানতকারীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ব্যাংক খাতে বর্তমানে গভীর সংকট চলছে। অনেক গ্রাহক প্রয়োজনীয় অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না। কেউ সামান্য টাকা তুলতে পারলেও অনেক ক্ষেত্রে টাকা দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসার প্রয়োজনে এক রোগী দেড় কোটি টাকা তুলতে চাইলেও তাকে মাত্র ৫ হাজার টাকা দেওয়ার ঘটনা রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সংগঠনটির দাবি, বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন দেশে পাচার হয়েছে।
চিফ কোঅর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আশরাফুজ্জামান বলেন, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দখলের পর থেকেই অর্থপাচারের অভিযোগ শুরু হয়। তিনি বলেন, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ বাতিল ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এছাড়া সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন’-এর কিছু ধারা নিয়েও আপত্তি জানায় সংগঠনটি। তাদের মতে, এতে অতীতের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
স্মারকলিপিতে ব্যাংক লুটপাটের বিচার, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়।