
নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বিশাল বাজেট পেশের পরও রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি বা বাড়তি প্রভাব দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ঢাকার অন্যতম বৃহত্তম পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজার আকস্মিকভাবে পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই দাবি করেন।
হুট করে বাজারে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী সেখানকার পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সাথে পণ্যের আমদানি, মজুদ ও বিপণন পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেন। এর পাশাপাশি বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের সাথেও কথা বলে পণ্যের দামের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
বাজারের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে আমরা সার্বিক বাজার পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেছি। বাজারে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও সন্তোষজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে।"
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "সরকার ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জনবান্ধব বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যে কর ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো যায়।"
বাজেট-পরবর্তী বাজার পরিস্থিতি নিয়ে মো. শরীফুল আলম আরও জানান, "বিগত বছরগুলোতে বাজেট ঘোষণার পর বাজারে মূল্যবৃদ্ধির যে প্রবণতা দেখা যেত, এবার তা পরিলক্ষিত হয়নি। কারণ এবারের বাজেট জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই প্রণয়ন করা হয়েছে।"
তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত এবং কঠোর নজরদারির ফলেই বাজারে পণ্যের সরবরাহ চেইন পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। এ সময় ওলটপালট দাম বাড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টাকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "অহেতুকভাবে কোনো পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এই ঝটিকা পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আব্দুর রহিম খান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সেবাস্টিন রেমা সহ উভয় মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।