
সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে জনগণের স্বস্তি হলেও বিরোধী দলের অস্বস্তি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, "সামাজিক ও মানবিক বাজেট দেওয়ার পরেও একটি খবরে দেখলাম মানুষের ক্ষতিকারক দিকগুলোর বিষয়ে দাম বাড়ানো হয় এই বাজেটে। এই কারণে এ বাজেট বিরোধী দলের পছন্দ নয়।"
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনকালে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এবারের বাজেট দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বরং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কর বাড়ানো হয়েছে শুধু মদ ও সিগারেটের ওপর, কারণ এগুলো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু বিরোধী দল সেটি নিয়েও সমালোচনা করছে। তাদের উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়, বরং দেশে অশান্তি তৈরি করা ও মানুষকে বিভ্রান্ত করা।"
পাতলী খালের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১৯৭৭ সালে গ্রামীণ অর্থনীতি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী যে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, পাতলী খাল ছিল তার অন্যতম অংশ। জিয়াউর রহমান নিজে এসে এই খালের উদ্বোধন করেছিলেন। প্রায় অর্ধশতাব্দী পর তাঁরই সুপুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন।
বেলা ১১টার দিকে নিজ হাতে মাটি কেটে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "পাতলী খাল পুনঃখনন শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি কৃষি, সেচ ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এটি সম্পন্ন হলে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।"
‘করবো কাজ, গড়ব দেশ’—এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে দেশের ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী:
কৃষক প্রণোদনা: বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে 'কৃষি কার্ড' দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তাঁরা নগদ আড়াই হাজার টাকা করে প্রণোদনা পাবেন।
বিনামূল্যে নারী শিক্ষা: স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং উপবৃত্তি কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড ও স্বাস্থ্যসেবা: গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে 'ফ্যামিলি কার্ড' চালু এবং স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
চিকিৎসা ব্যয়ে ছাড়: সবচেয়ে বড় ঘোষণা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জানান, অসহায় রোগীদের সুবিধার্থে হার্টের রিং এবং কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ ও ওষুধের ওপর থেকে সমস্ত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মাবুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় আরও বক্তব্য দেন— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল।
দিনব্যাপী সফরের পরবর্তী অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বিকেলে চকরিয়ায় দলীয় জনসভায় অংশ নেবেন।