
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পথে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলো—বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন প্রশাসন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এর আওতায় বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর অভিবাসীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সহায়তা গ্রহণের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা পর্যটক বা শিক্ষার্থী ভিসাসহ অনভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিস্তারিত জানার জন্য একটি নির্দিষ্ট লিংকেও ভিজিট করতে বলা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্যে আরও জানানো হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে এবং তারা যেন দেশের নাগরিকদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। এই লক্ষ্যেই বর্তমানে ভিসা প্রদান সংক্রান্ত স্ক্রিনিং ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে পর্যালোচনা করছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
এই সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এর আওতায় আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কোট দিভোয়ার, কিউবা, কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজিসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করা হয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছে গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ আপাতত বন্ধ থাকলেও অন্যান্য অস্থায়ী ভিসা কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে।