
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে বাণিজ্য, শ্রমবাজার, প্রযুক্তি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে একটি যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।
সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের নেতারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যৌথ ইশতেহারে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি আধুনিক ও বিস্তৃত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ যৌথ বিজনেস কাউন্সিল’ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, বন্দর ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতেও সম্মত হয়েছে দুই দেশ।
শ্রমবাজারের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া দেশটির অর্থনীতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের প্রশংসা করেছে। কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, বৈষম্যহীন ও প্রতিযোগিতামূলক করার পাশাপাশি নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আয়োজন এবং বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক হালনাগাদের বিষয়ে একমত হয়েছে উভয় পক্ষ।
প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফিনটেক, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্সে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতের সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
হালাল শিল্পের উন্নয়নে মালয়েশিয়ার ইসলামিক উন্নয়ন বিভাগ (জাকিম) বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে। উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষায় দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি খাতে পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার মধ্যে এলএনজি সরবরাহ এবং অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত আলোচনা ত্বরান্বিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যৌথ কৌশলগত মহড়া এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মালয়েশিয়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছে এবং তাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এ ছাড়া আসিয়ানের ‘সেক্টোরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে মালয়েশিয়া।
সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।