
ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত গুণগত মান পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের কয়েকটি মসলা, বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে এসব পণ্যের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিএসটিআইয়ের সম্পাদক মঈনুদ্দীন মিয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নিম্নমানের প্রমাণিত এসব পণ্য না কেনার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিএসটিআই জানায়, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাজার থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে বেশ কিছু পণ্যের মান নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পাওয়া গেলেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলার মান পরীক্ষায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে দুধের চর্বি বা ‘মিল্ক ফ্যাট’ পাওয়া যায়নি। বরং পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে সেটিকে ‘ঘি’ হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে পরীক্ষায় উঠে এসেছে। অন্যদিকে বম্বে সুইটসের মসলাগুলোও বাংলাদেশ মানের বিভিন্ন নির্ধারিত প্যারামিটারে ব্যর্থ হয়েছে।
বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বম্বে সুইটস এন্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারী পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং-১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং-১৪০২২৬), কালা ভুনা মসলা (ব্যাচ নং-২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ-এ) এবং মাছের মসলা (ব্যাচ নং-এ) অকৃতকার্য হয়। এসব পণ্যে মোট এ্যাস ও লবণের পরিমাণ বাংলাদেশ মানের নির্ধারিত সীমার তুলনায় বেশি পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ মান অনুযায়ী নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি। এর ব্যাচে উৎপাদনের তারিখ ০১.০৭.২০২৬ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ৩০.০৭.২০২৮ খ্রি. উল্লেখ রয়েছে।
এ তালিকায় আরও রয়েছে কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, যার উৎপাদনের তারিখ ১৭.০৭.২০২৬ খ্রি. এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ২৪.১২.২০২৭ খ্রি.; মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ব্র্যান্ডের ঘি, উৎপাদনের তারিখ ১৫.০৪.২০২৫ খ্রি. ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ১৪.০৪.২০২৭ খ্রি.; একই প্রতিষ্ঠানের ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি, উৎপাদনের তারিখ ১০.০১.২০২৬ খ্রি. ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ১০.১২.২০২৮ খ্রি.; এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস এন্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল (ব্যাচ নং-০২২০২৬)।
পরীক্ষায় এসব ঘি ও বাটার অয়েলের রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু এবং পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে। ফলে বাংলাদেশ মান অনুযায়ী পণ্যগুলো পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এ বিষয়ে বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজার রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত এবং নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর। বিএসটিআই পণ্যের মান সনদ প্রদানের পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রুখতে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে কঠোর নজরদারি চলমান রেখেছে।
তিনি ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানান।
কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা কিংবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগ থাকলে দ্রুত বিএসটিআইকে হটলাইন ১৬১১৯ নম্বরে ফোন অথবা [email protected] ঠিকানায় ই-মেইল করে জানানোর জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।