
ঢাকা-১৩ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজকে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের জন্য ডাক দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার পর সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এই তথ্য নিশ্চিত হয়।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১৩ আসনের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বিজয়ী হন। তিনি ৮৮,৩৮৭ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মামুনুল হককে ৮৬,০৬৭ ভোটে হারান।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জয় লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এছাড়া জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ৭৭ আসন পায়, যেখানে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি এবং বাকি ৯টি আসন তাদের শরিক দলগুলো পেয়েছে।
জাতীয় সংসদে ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫১টি আসনে জয়লাভ করলে সরকার গঠন সম্ভব। অর্থাৎ মোট আসনের ৫০.৩৩ শতাংশ জিতে একটি দল সরকার গঠন করতে পারে। বিএনপির এই বড় জয়ে দলের সব স্তরের নেতাকর্মীরা উল্লসিত। দলজুড়ে এখন স্বস্তির বাতাস বইছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের বিএনপির অভূতপূর্ব জয়ের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারাকে ধারণ, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় নেতাকর্মীদের উপর প্রয়োগিত নির্যাতন, দলের অটুট ঐক্য এবং প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবার-এর অসীম ত্যাগ।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে দলের কাণ্ডারী তারেক রহমান-এর দেশে প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনের পর দেশে ফিরে নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় নেতৃত্ব দেওয়ায় এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অনন্য ঘটনা। নির্বাচনী প্রচারে তার নেতৃত্ব, দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন বিএনপিকে নতুন করে প্রাণবন্ত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, তারেক রহমান কেবল নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করেননি, বরং দীর্ঘদিনের পর দলকে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক রোডম্যাপ দিয়েছেন। এই রোডম্যাপের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা।