
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদী পেরিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) হাতে জিম্মি হয়েছেন পাঁচ রোহিঙ্গা জেলে। একই সাথে জেলেদের ব্যবহৃত একটি মাছ ধরার ট্রলারও আরাকান আর্মি নিয়ে গেছে বলে জানা যায়।
রোববার (২৮ জুন) সকালে সেন্টমার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপ সংলগ্ন সাগরের নীল জলসীমায় এ ঘটনা ঘটে।
অপহৃত জেলেরা হলেন— মোহাম্মদ আইয়ুব (২৪), মোহাম্মদ আজিমুল্লাহ (৩০), সালাম নুর (৩১), আয়ুব আলী (৩৭) এবং ছৈয়দ হোসেন (২৫)। তারা সবাই উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী।
উপকূলীয় জেলে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে টেকনাফের কায়ুকখালী ঘাট থেকে সাবরাং ইউনিয়নের আলীর ডেইল গ্রামের বাসিন্দা আলী আহমদের মালিকানাধীন একটি ফিশিং ট্রলার নিয়ে জেলেরা সাগরে রওনা হন। ট্রলারটি গভীর সাগরে ছেঁড়া দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছালে আরাকান আর্মির একটি দল স্পিডবোট নিয়ে তাদের ধাওয়া করে এবং অস্ত্রের মুখে ট্রলারটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এরপর ওই পাঁচ জেলেসহ ট্রলারটিকে মিয়ানমার সীমান্তের দিকে নিয়ে যায় সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। ওই সময় কাছাকাছি থাকা বাংলাদেশের অন্যান্য মাছ ধরার ট্রলারগুলো অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত জাল গুটিয়ে নিরাপদ স্থানে ফিরে আসে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার একপর্যায়ে মিয়ানমার সীমান্তের জলসীমার অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ায় আরাকান আর্মি ওই ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা সবাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। জিম্মি জেলেদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মাধ্যমে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।