
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক মঞ্চে হঠাৎই তৈরি হয় অস্বস্তিকর এক মুহূর্ত। সবাই যখন আনুষ্ঠানিক সৌজন্যের দৃশ্য দেখার অপেক্ষায়, তখনই ভিন্ন অবস্থান নেন ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিব্রিল রাজউব। ফিফা সভাপতির আহ্বানেও ইসরায়েলি প্রতিনিধির পাশে দাঁড়াতে রাজি হননি তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ মে) ফিফা কংগ্রেসের অধিবেশনে এই ঘটনা ঘটে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মঞ্চে ডাকেন ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিব্রিল রাজউব ও ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাসিম শেখ সুলিমানকে। দুই পক্ষকে কাছাকাছি দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও রাজউব নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। মুহূর্তটি উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যেও স্পষ্ট অস্বস্তির জন্ম দেয়।
পরে ফিলিস্তিন ফুটবলের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুসান শালাবি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে এমন কারও সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, যাকে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ আড়াল করার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও ইসরায়েল বরাবরই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ঘটনার পর ইনফান্তিনো দুই পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। শিশুদের ভবিষ্যৎ ও ফুটবলের স্বার্থে বিভেদ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। তবে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা মনে করছেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা উপেক্ষা করে কেবল প্রতীকী সৌজন্যের চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও বিব্রতকর করে তুলেছে।
কংগ্রেস শেষে শালাবি বলেন, রাজউব তার বক্তব্যে দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি ক্লাবগুলোর বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সেই অবস্থানের পর হঠাৎ করমর্দনের পরিস্থিতি তৈরি করলে পুরো বক্তব্যের গুরুত্বই ক্ষুণ্ন হয়।
রাজউবও পরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি তার সম্মান রয়েছে, তবে এখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে দ্বৈত নীতির সমালোচনাও করেন তিনি।
সম্প্রতি পশ্চিম তীরের বসতিগুলোতে থাকা ইসরায়েলি ক্লাব নিয়ে ফিফার নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে ক্রীড়া সালিশ আদালতে আপিল করেছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তবে আন্তর্জাতিক আইনে ওই অঞ্চলের অবস্থান এখনও চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত না হওয়ায় আপাতত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে গত মাসে জানায় ফিফা।