
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণের জন্য ২০ কোটি টাকার অনুদান এবং শিক্ষার্থীদের বিশেষ বৃত্তির অর্থ ছাড়ের বিষয়টি প্রশাসনের গাফিলতি ও দীর্ঘসূত্রতায় আটকে আছে বলে অভিযোগ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ভিপি রিয়াজুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণের জন্য ২০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প পাওয়া গেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জায়গা সংকটের কারন দেখানোর ফলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। যার কারনে বিশাল এই বরাদ্দটি হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি দ্রুত এই জমি বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্প নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিশেষ বৃত্তির অর্থ ছাড়ের বিষয়ে তিনি বলেন, "আমরা জকসুর পক্ষ থেকে ইউজিসি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে দফায় দফায় যোগাযোগ করেছি। অর্থ মন্ত্রণালয় এই বৃত্তির অনুমোদন দিলেও বর্তমানে ফাইলটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। আমাদের ট্রেজারার এবং ফিন্যান্স ডিরেক্টর মহোদয় একটু আন্তরিক হলে এবং সরাসরি যোগাযোগ করলে এটি সমাধান সম্ভব। কিন্তু আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট গাফিলতি ও অবহেলা লক্ষ্য করছি।"
পরিবহন সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, পরিত্যক্ত গাড়ি বিক্রির অর্থ দিয়ে যদিও প্রশাসন মাইক্রোবাস কেনার চেষ্টা করছে তবুও জকসুর পক্ষ থেকে সেই অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বাস কেনার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া আবাসন সংকটের কারণে সম্প্রতি তিন শিক্ষার্থীর আত্মহননের ঘটনাকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার আহ্বান জানান।
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন একটি ফ্যাসিবাদী কাঠামোর মধ্যে ছিলাম। এখন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে পেয়েছি। এখানে সবাই মুক্তকণ্ঠে কথা বলবে, সত্যকে সত্য বলবে। জকসু প্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় বা ছুটির দিনে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকলেও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে সবসময় পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে।"