
চীন ও মালয়েশিয়ায় ছয় দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই ছিল তাঁর প্রথম সরকারি বিদেশ সফর। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ, চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সফরের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসনের পর জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সফল হয়েছে। সফরে দুই দেশের সঙ্গে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেবে।
তিনি বলেন, অতীতের সরকারপ্রধানদের বিদেশ সফরকে ঘিরে যে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনার আয়োজন করা হতো, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সে সংস্কৃতি থেকে সরে এসেছেন। তিনি নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন, বিদেশ সফরের আগে বা পরে কোনো ধরনের সংবর্ধনা আয়োজন করা হবে না। তবে সংবর্ধনা না থাকলেও সফরের অর্জন ছিল উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এ সফরের ফলে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরুজ্জীবন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় সফরটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য, বৃহৎ অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে চীন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে বাংলাদেশ আশাবাদী। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বেইজিং কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।