
ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক ফ্যাশনের মেলবন্ধন ঘটিয়ে প্যারিসের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার মসলিন ও তাঁতশিল্পের কারুকার্য তুলে ধরলেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসলিনের শাড়িতে দেবীতুল্য ও মোহময়ী সাজে হাজির হয়ে ফ্যাশন দুনিয়ায় নজর কাড়েন এই অভিনেত্রী।
প্যারিসে আয়োজিত বিশ্বখ্যাত ‘বিজনেস অব ফ্যাশন’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন জাহ্নবী। চলতি বছরের ফ্যাশন অঙ্গনের বিশ্বসেরা ৫০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। সেই স্বীকৃতির উদযাপনেই ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাককে আধুনিক নান্দনিকতায় উপস্থাপন করেন অভিনেত্রী।
তার পুরো সাজ ও পোশাকের পরিকল্পনায় ছিলেন কাপুর পরিবারের আরেক সদস্য ডিজাইনার ও স্টাইলিস্ট রিয়া কাপুর।
৪৬০ কাউন্টের মসলিনে সূক্ষ্ম কারুকাজ
জাহ্নবীর পরনে ছিল ‘পঙ্কজ এস হেরিটেজ’-এর জন্য তৈরি বিশেষ নকশার একটি শাড়ি। এতে ঐতিহ্যবাহী শাড়ির কাঠামোর সঙ্গে আধুনিক পোশাক-নকশার সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে।
শাড়িটি তৈরি হয়েছে ৪৬০ কাউন্টের সুতা দিয়ে। এতে মসলিনের অত্যন্ত সূক্ষ্ম বুনন ও ঐতিহ্যবাহী কারুকাজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই ধরনের মসলিন ঐতিহ্যগতভাবে ‘বাফ-ই-হাওয়া’, ‘শবনমী’ ও ‘চাঁদনি’ নামে পরিচিত।
আইভরি রঙের মূল কাপড়ের ওপর পোখরাজ, পান্না, গার্নেট ও মুক্তার পাশাপাশি সোনার পুঁতি দিয়ে নকশা করা হয়েছে। কাঁধ থেকে হাত পর্যন্ত বিস্তৃত অলংকারের মতো কারুকাজ শাড়িটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফ্যাশন তালিকায় আরও দুই ভারতীয়
২০২৬ সালের ‘বিজনেস অব ফ্যাশন’ তালিকায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আটটি বিভাগে মোট ১০০ জন নতুন ব্যক্তিত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জাহ্নবী কাপুর ছাড়াও জায়গা পেয়েছেন ভারতের আরও দুই মডেল ভাবিতা মান্ডভা ও প্রীতিশা স্বরূপ।
ভাবিতা মান্ডভা ‘শানেল’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর এবং এই ব্র্যান্ডের একটি প্রদর্শনীতে শো ওপেন করা প্রথম ভারতীয় নারী। অন্যদিকে প্রীতিশা স্বরূপ আন্তর্জাতিক মডেল হিসেবে পরিচিত। তিনি ‘অপারেশনস স্মাইল’-এর বৈশ্বিক দূত এবং আয়ুর্বেদভিত্তিক সৌন্দর্য ব্র্যান্ড ‘প্রাক্তি’র প্রতিষ্ঠাতা।