
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার আগে ঈদে বাড়ি ফেরার জন্য শিমুলিয়া ফেরিঘাটে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। কখনো রোদে পুড়তে হতো, কখনো বৃষ্টিতে ভিজতে হতো। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে সেই ভোগান্তি কমেছে।
তবে সেতু চালু হওয়ার পর বিগত কয়েকটি ঈদে সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় জট বাধার কারণে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এবার এখন পর্যন্ত সেই ভোগান্তি তারা কোথাও পাননি। স্বস্তির সঙ্গে গন্তব্যে যাচ্ছেন তারা।
খুলনা সোনাডাঙার বাসিন্দা কাজী মাসুদ এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা জানালেন।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার পদ্মা সেতু হয়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষ গন্তব্যে যেতে শুরু করেছে। বুধবার ভোর থেকে পদ্মা সেতুর উত্তর প্রান্তে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া টোল প্লাজা এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অন্য সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু এলাকায় দক্ষিণমুখী যানবাহনের সংখ্যা বেশি থাকলেও কোনো রকম ভোগান্তি নেই। এতে সহজেই গন্তব্যে যেতে পারছেন যাত্রী ও চালকেরা।
বুধবার সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত টোল প্লাজা এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়।
সড়ক ও সেতু এলাকায় যাত্রীবাহী বাস এবং মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়েছে। এসব যানবাহনে চড়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষ সেতুর টোল প্লাজায় আসছেন।
কখনো কিছু সময় অপেক্ষা করছেন, কখনো কোনো অপেক্ষা ছাড়াই টোল পরিশোধ করে সেতু পার হতে পারছেন। এসব যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যাই বেশি লক্ষ্য করা যায়।
সার্বিক পরিবহনের যাত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেছেন।
তিনি বলেন, “সকালে বাসে করে যাত্রা শুরু করেছি। সড়কের কোথাও কোনো যানজট ছিল না। ধারণা ছিল পদ্মা সেতু এলাকায় যানজট পড়বে, কিন্তু এখানে এসেও দেখলাম স্বাভাবিক। আশা করছি সম্পূর্ণ পথের যাত্রা আরামদায়ক হবে।”
বরিশালের স্বরূপকাঠির বাসিন্দা শরীফুল ইসলাম একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
তিনি বলেন, “আগে শিমুলিয়া ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতাম। সেতু হওয়ার পর ভোগান্তি শেষ হয়েছে। সকালে টোল প্লাজা এলাকায় মোটরসাইকেলের খুব চাপ থাকলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই টোল পরিশোধ করতে পেরেছি।”
মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) জিয়াউল হায়দার বলেন, “আজ সরকারি ছুটির দ্বিতীয় দিন। সকালে স্বাভাবিকভাবেই যানবাহনের একটা বড় চাপ ছিল। তবে কোনো ভোগান্তি নেই। কোথাও যানবাহনের সারি নেই। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাত্রীরা বাড়ি ফিরছেন।”
যাত্রীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে সেতু পারাপার নিশ্চিত করতে সেতু বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান পদ্মা সেতুর সহকারী প্রকৌশলী (টোল) মো. নাবিল হোসেন।
তিনি বলেন, “স্বাভাবিক সময়ে মোটরসাইকেলের একটি ও অন্য যানবাহনের জন্য ৭টি লেনে টোল বুথ থাকে। ঈদ উপলক্ষে মোটরসাইকেলের জন্য ২টি অস্থায়ী টোল বুথ বাড়ানো হয়েছে। এখন ১০টি বুথ দিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ ৫-১০ মিনিটের মধ্যে প্রতিটি যানবাহন টোল পরিশোধ করে গন্তব্যের দিকে ছুটে যাচ্ছে।”