
দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। দিল্লির নতুন হাইকমিশনার হিসেবে বর্তমান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর এই নতুন দায়িত্বের বিষয়ে সম্মতি চেয়ে ইতোমধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে 'এগ্রিমো' বা প্রস্তাবপত্র পাঠিয়েছে ঢাকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত সপ্তাহে প্রস্তাবনাটি নয়াদিল্লিতে পাঠানো হয়। এখন ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এগ্রিমো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ২০২৫ সালের ২০ জুন পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব নেওয়া আসাদ আলম সিয়াম।
পেশাদার এই কূটনীতিক বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থাপত্যে স্নাতক এবং নেদারল্যান্ডস থেকে উচ্চতর এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের মাধ্যমে নিজ কূটনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন।
বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত ও বিশ্বব্যাংক-আইএমএফে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি, অস্ট্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত ও ভিয়েনায় জাতিসংঘ কার্যালয়ের প্রতিনিধি, ফিলিপাইনে রাষ্ট্রদূত, মিলানে প্রথম কনসাল জেনারেল, ইউরোপ উইংয়ের মহাপরিচালক, চিফ অব প্রটোকল, ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমির রেক্টর এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল অব মিশনসসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে যে স্থবিরতা ও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা এখন একটি স্পর্শকাতর পুনর্বিন্যাস বা ‘রিসেট’ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উভয় দেশেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে গুছিয়ে আনার প্রয়াস দেখা যাচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বার্তা দেন। একই সাথে ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকায় আবার ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যকার বাস যোগাযোগ আংশিকভাবে সচল করা হয়েছে এবং শীর্ষপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পররাষ্ট্রসচিব পদে আসছেন সালাহউদ্দীন নোমান চৌধুরী
আসাদ আলম সিয়াম নতুন মিশন নিয়ে দিল্লি যাচ্ছেন—এমন আলোচনার মধ্যেই পরবর্তী পররাষ্ট্রসচিব কে হচ্ছেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি পদে কর্মরত সালাহউদ্দীন নোমান চৌধুরীকে নতুন পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। ১৯৯৮ সালে ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়া এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তা নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, নয়াদিল্লিতে ডেপুটি হাইকমিশনার ও জাতিসংঘ মিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি মাসেই বেশ কিছু গণমাধ্যমে তাঁর সম্ভাব্য নিয়োগের বিষয়টি উঠে এসেছে।