
দেশের তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যৎ—এমন মন্তব্য করে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২ মে) সিলেটে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সরকার তরুণদের শিক্ষা, ক্রীড়া ও দক্ষতা উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহায়তা দেবে। শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরা যে যা হতে চাও—ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, খেলোয়াড় বা শিল্পী—সরকার সেই সুযোগ তৈরি করবে।”
একই দিনে তিনি বন্ধ হয়ে থাকা কলকারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর ঘোষণা দেন। শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে এসব কারখানার তালিকা প্রস্তুত ও বন্ধ হওয়ার কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে কারখানাগুলো সচল করা হবে, যাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই জনশক্তি রপ্তানি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিলেটের বাসিয়া নদী পুনঃখনন প্রকল্প উদ্বোধন করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে। প্রায় ২৩.৫ কিলোমিটার নদী খননের এই প্রকল্পে ১২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে, যা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষকে উপকৃত করবে।
এছাড়া দেশের ৬০ জেলায় খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নেও বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেটের পরিত্যক্ত ২০০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই নারী।
ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রতিভা বাছাই করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।