
ঢাকা মহানগরীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং হকারদের নির্ধারিত স্থানে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) আধুনিক হকার পুনর্বাসন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নগর ভবনের অডিটরিয়ামে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এ সময় গুলিস্তান এলাকার ১০০ জন হকারকে রমনা ভবন সংলগ্ন রিংক রোড এলাকায় পুনর্বাসনের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়।
নতুন নীতিমালার আওতায় রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গুলিস্তান রমনা ভবন লিংক রোডে দৈনন্দিন বাজার, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বিপরীত এজিবি কলোনি মাঠে এবং ইসলাম চেম্বার সংলগ্ন এলাকায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সান্ধ্যকালীন বাজার পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রাজউক ভবনের পেছন, গুলিস্তান টুইন টাওয়ার গলি, বাইতুল মোকাররম পূর্ব গেট সংলগ্ন লিংক রোড, নিউ মার্কেট দক্ষিণ গেট এবং শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ে হকার বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে ফুটপাত ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে, অন্যদিকে নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের জীবনমান উন্নত হবে।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাই সহযোগিতা করলে ঢাকা শহরকে একটি সুশৃঙ্খল নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব।
ডিএসসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ১০০ জন হকারকে কিউআর কোড সম্বলিত ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য হকারদেরও এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।
তিনি বলেন, হকার বসার পরও পথচারীদের চলাচলের জন্য ন্যূনতম ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা খালি রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা এই উদ্যোগকে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, স্কুল, খেলার মাঠ বা ধর্মীয় স্থাপনার সামনে কোনো বাজার বসানো যাবে না। স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণও নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন হকার বা নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের থাকবে। অবৈধ চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নজরদারি করবে।