
দেশের শিল্পখাতে খেলাপি ঋণের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে ৩১ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) জানিয়েছে, এই পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ বিতরণে অনীহা দেখাচ্ছে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই আয়োজিত ‘ব্যাংকিং খাতের সমন্বয়: ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সংগঠনটির সভাপতি তাসকীন আহমেদ এসব তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বর্তমানে শিল্প খাতের ঋণের ৫০ দশমিক ৪৬ শতাংশ অনাদায়ী হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নেওয়া ঋণের ৩৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ সময়মতো পরিশোধ হচ্ছে না। ফলে ব্যাংকগুলো ঝুঁকি এড়াতে ঋণ বিতরণ কমিয়ে দিচ্ছে।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক ০৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের ৭ দশমিক ১৫ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। অন্যদিকে, সরকারি খাতে ঋণ গ্রহণ বেড়ে ২৬ দশমিক ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ (জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ৭৩ হাজার ৩৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৭৩% বেশি) ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত ঋণের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে। এর ফলে বেসরকারি খাত ঋণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং “ক্রেডিট ক্রাউডিং আউট” পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
তবে ব্যাংক খাতে তারল্যের ঘাটতি নেই বলেও জানান তিনি। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর হাতে ৬ লাখ ২৬ হাজার ৪৪ কোটি টাকার তারল্য সম্পদ রয়েছে এবং অতিরিক্ত তারল্য দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২১ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। লিকুইডিটি কভারেজ রেশিও ১৮৫ শতাংশের বেশি, যা ন্যূনতম চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন রিজওয়ান রহমান, আব্দুল হাই সরকার, নওশাদ মোস্তফা, শামসুল আরেফিন এবং জাহিদুল ইসলাম।