
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে একাধিক জনমত জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। তবে এসব জরিপের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নিজের প্রকৃত জনসমর্থন প্রায় ৬০ শতাংশ বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁকে নির্বাচনে পরাজিত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাংবাদিক বাইরন ইয়র্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।
সাক্ষাৎকারে বাইরন ইয়র্ক জনমত জরিপগুলোর সমন্বিত হিসাব তুলে ধরেন। রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকসের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। বিপরীতে অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা ভুয়া।’
নিজের প্রকৃত জনসমর্থন কত, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁর সমর্থন ৩৭ বা ৩৮ শতাংশ বলে যে হিসাব দেওয়া হচ্ছে, তা সঠিক নয়। তিনি ৩৮ শতাংশ সমর্থনের মধ্যে নেই বলেও দাবি করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, তাঁকে কেউ হারাতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন না। প্রয়োজন হলে তাঁর সমর্থন ৬০ শতাংশে পৌঁছাত, যদিও এই মুহূর্তে সে ধরনের পরিস্থিতির প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একাধিক জরিপে কমছে জনপ্রিয়তা
ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপের ফলাফলের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে।
গত ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর পরিচালিত রয়টার্স-ইপসোসের জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৩৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। তাঁর কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্টির কথা বলেছেন ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা।
অন্যদিকে, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিউ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালিত জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন পাওয়া গেছে ৩০ শতাংশ। তাঁর দায়িত্ব পালনে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।
চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের জরিপেও ট্রাম্পের সমর্থনের হার ছিল ৩৪ শতাংশ। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জনসমর্থন এত নিচে নামার সর্বশেষ নজির ছিল ১৯৪৬ সালে। সে সময় প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের প্রতি সমর্থন ছিল ৩৩ শতাংশ।
জরিপের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও বিতর্ক
ওয়েজউড রিসার্চ নামের একটি জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মনগড়া ফলাফল তৈরির বিষয়টি সামনে আসায় জনমত জরিপের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্পের জনসমর্থনের গড় হিসাব নির্ধারণে বিতর্কিত ওই প্রতিষ্ঠানের জরিপের তথ্য ব্যবহার করা হয়নি।
নিজের জনপ্রিয়তার পক্ষে ট্রাম্প সিএনএনের প্রধান তথ্য বিশ্লেষক হ্যারি এনটেনের একটি বিশ্লেষণের কথাও তুলে ধরেন। ওই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা সমর্থক রিপাবলিকানদের ৯৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন ট্রাম্প। গত সেপ্টেম্বরেও এই গোষ্ঠীর মধ্যে তাঁর সমর্থনের হার ছিল ৯৮ শতাংশ।
ট্রাম্প বলেন, তাঁর ধারণা, বর্তমানে জনসমর্থন ৬০ শতাংশের কাছাকাছি। বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে তাঁর সমর্থন অনেক বেশি বলে দাবি করেন তিনি।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ
তবে হ্যারি এনটেনের বিশ্লেষণেই মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে মানুষের অসন্তোষ বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে এ বিষয়ে সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির ব্যবধান ট্রাম্পের পক্ষে ৮ শতাংশ পয়েন্ট থাকলেও বর্তমানে তা কমে ঋণাত্মক ৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক আরেকটি জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ৩১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তাঁর দুই মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই পরিস্থিতিকে ট্রাম্পের জন্য ‘পাঁচ মাত্রার ভয়াবহ বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এনটেন।
তা সত্ত্বেও রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে নিজের জনপ্রিয়তার তথ্য তুলে ধরায় সিএনএনের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, তাঁকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমটি বেশ কয়েকটি ভালো জরিপ করেছে। সিএনএন এ ধরনের জরিপ চালিয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি তাঁর পছন্দ আরও বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।