
কোমল পানীয় সেভেন আপের (7Up) মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রান্সকম বেভারেজেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগারের রাসায়নিক পরীক্ষায় পানীয়টির ছয়টি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটিতে ব্যত্যয় পাওয়ার কথা উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করা হয়।
ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত মামলাটিতে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামির উপস্থিতির জন্য আগামী ১৬ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোহাং কামরুল হাসান মামলাটি দায়ের করেন। তিনি মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার ব্রাদার্স কম্পিউটার অ্যান্ড কনফেকশনারি থেকে সেভেন আপ ন্যাচারাল ফ্লেভার এক্সট্রা ফিজের একটি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগারের খাদ্য বিশ্লেষক ইলিয়াস জাহেদী গত ২১ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে পণ্যটিকে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি রাসায়নিক সংযোজন দ্রব্য ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ, সরবরাহ, বিক্রি এবং মোড়কজাত খাদ্যের লেবেলিং-সংক্রান্ত বিধিমালা, ২০১৭-এর ব্যত্যয়ের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, সেভেন আপ ন্যাচারাল লেমন ফ্লেভার এক্সট্রা ফিজের মোড়কে চিনি না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এতে নন-নিউট্রিটিভ সুইটনার রয়েছে বলেও লেখা আছে। গত ৪ অক্টোবর জব্দ করা ২৫০ মিলিলিটারের বোতলের গায়ে থাকা তথ্য খালি চোখে সহজে দেখা যায় না এবং তা সহজপাঠ্য নয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে সুইটনারের মাত্রা নিয়েও অসংগতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অ্যাসিসালফেম পটাশিয়ামের নির্ধারিত সর্বোচ্চ মাত্রা প্রতি লিটারে ৩০০ মিলিগ্রাম হলেও নমুনায় ৪৫০ মিলিগ্রাম পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে অ্যাসপারটেমের নির্ধারিত সর্বোচ্চ মাত্রা প্রতি লিটারে ৭০০ মিলিগ্রামের বিপরীতে নমুনায় ১ হাজার মিলিগ্রাম পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া সুগার কনটেন্ট ও ক্যাফেইনের মাত্রা নিয়েও পরীক্ষার প্রতিবেদনে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব পরীক্ষার ফল এবং অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।