
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফল ব্যবসায়ী আবুল কালামের ব্যবসার ৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের অভিযোগ ম্যানেজার আনোয়ার পারভেজের বিরুদ্ধে।
সোমবার বেলা ১২টায় ভৈরব প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আবুল কালাম বলেন, ‘‘ভৈরবের সিলেট বাসস্ট্যান্ডের ফল মার্কেটে ২০০৯ সালে আমার প্রতিষ্ঠানে মো. আনোয়ার পারভেজকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেয়৷ পরে ১০ বছর যাবত আমার প্রতিষ্ঠানের সকল আর্থিক লেনদেন ও হিসাব-নিকাশের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।’’
‘‘২০১০ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত ব্যবসার লেনদেনের স্বার্থে মো. আনোয়ার পারভেজ সর্বমোট ৩৮১ কোটি ৪৮ লাখ ১১ হাজার ৯২ টাকা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ব্যয় দেখান ৩৭৭ কোটি ১৭ লাখ ৬১ হাজার ৫৯৫ টাকা। হিসাব অনুযায়ী অবশিষ্ট ৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার ৪৯৭ টাকার হিসাব দিতে পারেন। এই টাকা আমার সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘হিসাব গড় মিলের পর ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি আনোয়ার পারভেজের কাছে ৪ কোটি টাকার বিস্তারিত হিসাব চাইলে তিনি আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে। সেই সঙ্গে কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব না দিয়ে বিভিন্নভাবে টালবাহানা করতে থাকেন। এতে আমি নিশ্চিত হই আনোয়ার পারভেজ আমার বিশ্বাসভঙ্গ করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। পরবর্তীতে আমার টাকা উদ্ধার করতে আমি অভিযুক্তের বাড়িতে যাই এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আনোয়ার পারভেজ আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।’’
‘‘বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আনোয়ার পারভেজ আমার সারা জীবনের ইনকাম করা টাকা আত্মসাৎ করে নিজে পাঁচতলা বিল্ডিংয়ের বাড়িসহ একাধিক বাড়ির মালিক হয়েছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। ব্যবসায়ীদের পাওনার টাকা পরিশোধ করতে পারছি না। আমি টাকা ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’’
ফল ব্যবসায়ী হাজী জাকির মিয়া ও মোস্তফা মিয়া বলেন, ‘‘আমরা ব্যবসায়ীরা আনোয়ার পারভেজকে আবুল কালামের মালিকানাধীন ফলের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হিসেবে চিনি। সে নিজে কোটিপতি বনে গেছেন আর আবুল কালাম হয়ে গেছেন দেউলিয়া। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রমাণ হবে আনোয়ার পারভেজ টাকা আত্মসাৎ করেছে।’’
অভিযুক্ত কর্মচারী অনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘‘আমি কালাম মিয়ার প্রতিষ্ঠানে পার্টনার ছিলাম। যদিও আমার কাছে পার্টনারশিপের কোনো ডকুমেন্টস নাই। কালাম মিয়ার ছেলে ব্যবসার দায়িত্ব নেওয়ার পর আমাকে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিতে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি ও আমার স্ত্রী ধার দেনা করে বিল্ডিং নির্মাণ করছি। কালাম মিয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’’
এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘‘টাকা আত্মসাতের বিষয়টি শুনেছি তবে এখনো এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’