
ভারতের আলোচিত প্রতারক ও বলিউড তারকা জ্যাকুলিন ফার্নান্ডেজ-এর প্রেমিক সুকেশ চন্দ্রশেখর অর্থ পাচার মামলায় জামিন পেলেও এখনই কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না। তবে এই আইনি খবরের আড়ালেই আবার সামনে এসেছে জ্যাকুলিন-কে ঘিরে তাঁর আলোচিত ‘প্রেমের উপাখ্যান’।
মঙ্গলবার দিল্লির একটি বিশেষ আদালত অর্থ পাচার মামলায় সুকেশের জামিন মঞ্জুর করে। আদালত জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে বিচার ছাড়াই আটক রাখা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পরিপন্থী। ৫ লাখ রুপির ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেওয়া হলেও কড়া কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ না করা, পাসপোর্ট জমা রাখা এবং অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা।
এই মামলার সূত্র ২০১৭ সাল। অভিযোগ, টিটিভি ধীনাকরণ- এর ঘনিষ্ঠ একটি পক্ষের হয়ে দলীয় প্রতীক পেতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার চেষ্টায় জড়িত ছিলেন সুকেশ। সেই অভিযোগ থেকেই পরে অর্থ পাচারের তদন্ত শুরু হয়।
তবে আইনি দিক দিয়ে কিছুটা স্বস্তি মিললেও বাস্তবে মুক্তি এখনো দূরের পথ। দেশজুড়ে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ৩১টি মামলার মধ্যে ২৬টিতে জামিন মিলেছে, কিন্তু বাকি ৫টি মামলার কারণে তাঁকে এখনো কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
এর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকে জ্যাকুলিনকে ঘিরে তাঁর সম্পর্কের গল্প। তদন্তকারীদের দাবি, অবৈধভাবে আদায় করা বিপুল অর্থের একটি অংশ খরচ করা হয়েছিল এই সম্পর্ককে ঘিরে। দামি উপহার পাঠানো থেকে শুরু করে কারাগার থেকেই প্রেমের চিঠি পাঠানো- সব মিলিয়ে বিষয়টি যেন বাস্তবের চেয়েও বেশি নাটকীয় হয়ে ওঠে।
এই ঘটনায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জ্যাকুলিন দাবি করেছেন, তিনি এই পুরো ঘটনার ‘শিকার’। এক পর্যায়ে নিজের সুনাম রক্ষায় আদালতের দ্বারস্থও হন তিনি, যাতে সুকেশ তাঁর নাম ব্যবহার করে কোনো বক্তব্য দিতে না পারেন।
এদিকে সুকেশের স্ত্রী লীনা মারিয়া পল-এর নামও তদন্তে উঠে এসেছে। আর্থিক লেনদেন ও যোগাযোগ রক্ষায় তাঁর ভূমিকার কথা বলছেন তদন্তকারীরা।
সব মিলিয়ে, আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সুকেশ চন্দ্রশেখরের ব্যক্তিগত জীবনও যেন সমানভাবে আলোচনার কেন্দ্রে। জামিনের এই সিদ্ধান্ত তাঁকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও, মামলা আর বিতর্কের এই জট খুলতে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।