
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক প্রভাবের মধ্যে দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিয়েসহ সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অফিসের কর্মঘণ্টাও কমিয়ে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এসব সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই জরুরি পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হয়েছে।
সচিব বলেন, বিয়ে কিংবা অন্য কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
এছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর দেশের সব দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ রাখতে হবে। এতে রাতের সময়ে বিদ্যুতের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও এতে জনজীবনে কিছুটা প্রভাব পড়বে, তবুও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে এ সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
অফিস সময়সূচিতে আনা পরিবর্তন অনুযায়ী, আগামী রোববার থেকে সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু হবে সকাল ৯টায় এবং শেষ হবে বিকেল ৪টায়। অর্থাৎ আগের তুলনায় এক ঘণ্টা কমিয়ে দৈনিক কর্মঘণ্টা সাত ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে অফিস ও যাতায়াতজনিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের সময় কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সময়সূচি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এদিকে, দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সিলেটের সঙ্গে দেশের রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে, যা যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, জ্বালানি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে আরও নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আপাতত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ঘোষিত নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।