
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে টেনে-হিঁচড়ে ঝোপের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১২ মে) গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার সকালে আশুলিয়া থানায় মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম আবর্তনের (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার রাত ১১টার কিছু পর তিনি ক্যাম্পাসের একটি সড়ক দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করতে থাকেন।
পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেসা হল ও আল-বেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে ওই ব্যক্তি জালসদৃশ একটি বস্তু তার গলায় পেঁচিয়ে পাশের ঝোপে টেনে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ সময় মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার পথে কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাত্রীর চিৎকার শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাফিকুল ইসলাম বলেন, চিৎকার শুনে তারা মোটরসাইকেল থামিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় এক ছাত্রীকে দেখতে পান। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা ও প্রক্টরিয়াল বডিকে জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী জানান, রাত সোয়া ১১টার দিকে খবর পেয়ে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান এবং পুরো এলাকা তল্লাশি চালান। তবে অভিযুক্তকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ফুটেজে দেখা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রীকে গলায় ফাঁসসদৃশ বস্তু পেঁচিয়ে ঝোপের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের মুখ আংশিকভাবে শনাক্ত করা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা জোরদার ও দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে