
রাজশাহীতে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের পর দুই সংগঠনের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এক প্রতিবাদ সমাবেশে রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ‘কুত্তার মতো পিটিয়ে’ রাজশাহী থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইমরান নাজিরের বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষের প্রতিবাদে রাজশাহী মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
‘ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে রাজশাহী ছাড়া করব’
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরের সাহেব বাজার থেকে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। পরে মিছিলটি সোনাদিঘীর মোড় এলাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানেই অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য দেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির।
সমাবেশে তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা ছাত্রদলের বন্ধুদের বলছি, আমরা ধৈর্যের সীমান্তের একেবারে শেষ পর্যায়ে আছি। যদি আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়, প্রত্যেকটা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কুত্তার (কুকুর) মতো পিটিয়ে রাজশাহী ছাড়া করব।’
ইমরান নাজির ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদেরও সদস্য।
‘আমার কোনো নেতাকর্মী আহত হলে দাঁতভাঙা জবাব দেবো’
ছাত্রশিবিরের কোনো নেতাকর্মী আহত হলে ছাত্রদলের ‘টোকাই মার্কা’ কোনো নেতার ‘পিঠের চামড়া’ রাখা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন ইমরান নাজির।
তিনি বলেন, ‘ছাত্রশিবির কোনও ভেসে আসা সংগঠন না, ছাত্রশিবির রাজপথে জীবন দেওয়া সংগঠন। শহীদ আলীরা প্রমাণ করেছে, রাজপথে কীভাবে জীবন দিতে হয়। আমরা জীবন দেবো, কিন্তু আমার ছাত্রসমাজের বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনও নেতাকর্মীর ওপর যদি কোনও হামলা হয়, তার দাঁতভাঙা জবাব আমি দেবো, ইনশা আল্লাহ।’
সমাবেশে ছিলেন শিবিরের সাবেক নেতারাও
রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনটির রাজশাহী মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি এ কে এম সারওয়ার জাহান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক আবদুর রহিম, রাজশাহী মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং খায়রুল ইসলাম।
ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ
এর আগে মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর পদ্মা সরকারি কলেজে ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
ওই ঘটনায় ছাত্রশিবিরের তিনজন এবং ছাত্রদলের দুজনসহ মোট পাঁচজন আহত হন। পরে আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলেজে ভর্তি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে একটি হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছিল। সেখানে সম্প্রতি ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে সেই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ছাত্রদলের পাল্টা হুঁশিয়ারি
ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের পর রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হকও পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন।
মঙ্গলবার রাতে শহীদ মিনার এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ছাত্রদলকে ‘কুকুরের মতো পিটিয়ে’ রাজশাহী থেকে বের করে দেওয়ার বক্তব্য ছাত্রশিবিরের সভাপতির মুখে শোভা পায় না বলে মন্তব্য করেন এমদাদুল হক।
তিনি বলেন, ‘ইমরান নাজিরকে হুঁশিয়ারি করে বলে দিতে চাই, ইমরান নাজির সাহেব, আপনার বাসা কুমিল্লা। আপনি হয়েছেন পিআর পদ্ধতিতে নেতা। রাজশাহীতে আমাদের নাড়ি পোঁতা, এই রাজশাহীতেই হচ্ছে আমাদের জন্ম, পৈতৃক ভিটার ওপর বসবাস করি। যখন লাগবেন, তখন টের পাবেন।’
এরপর ছাত্রদলের এই নেতা আরও বলেন, ‘যদি ছাত্রদল রাজপথে নামে, ছাত্রশিবির কেন, ওই রাজাকারের সংগঠন রাজশাহীতে পা ফেলারও জায়গা পাবে না।’
ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বহিরাগত আনার অভিযোগ
পদ্মা সরকারি কলেজের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে এমদাদুল হক অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বহিরাগতরাও যোগ দিয়েছিলেন এবং তারা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেন।
তার দাবি, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ওই হামলার ‘অল্প পরিমাণ প্রতিরোধ’ করেছেন।
পদ্মা সরকারি কলেজের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের নেতাদের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই রাজশাহীতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।