
শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশার দাপটে রাজধানীর আকাশ ঢেকে যাওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক ফ্লাইট অবতরণে ব্যর্থ হয়েছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে কুয়াশার কারণে অন্তত ১০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকায় নামতে না পেরে বিকল্প বিমানবন্দরে ঘুরে যেতে বাধ্য হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিজিবিলিটি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় রানওয়েতে নিরাপদ অবতরণ সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতিতে ঢাকা অভিমুখী ফ্লাইটগুলোকে চট্টগ্রাম, ভারতের কলকাতা ও থাইল্যান্ডের ব্যাংকক বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়।
হঠাৎ সূচি বিপর্যয়ে কয়েক হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিমানবন্দর সূত্র বলছে, কুয়াশার তীব্রতা কমার আগ পর্যন্ত স্বাভাবিক বিমান চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ঢাকাসহ সারা দেশেই এখন তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাব স্পষ্ট। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে এবং মৌসুমি লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় থাকায় শীতের মাত্রা বেড়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানান, আকাশ আংশিক মেঘলা ও আবহাওয়া শুষ্ক থাকলেও মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত অনেক এলাকায় ঘন কুয়াশা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে বিমান চলাচলের পাশাপাশি নৌ ও সড়ক যোগাযোগেও সাময়িক বিঘ্ন দেখা দিচ্ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে সারা দেশে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় কুয়াশার প্রকোপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। কুয়াশায় সড়কপথে হেডলাইট জ্বালিয়ে সতর্কভাবে চলাচল এবং নৌপথে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, দৃশ্যমানতা ৮০০ থেকে ১ হাজার মিটারের বেশি না হলে রানওয়েতে বিমান ওঠানামার অনুমতি দেওয়া হবে না। কুয়াশা কাটার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
ফ্লাইট ডাইভার্ট হওয়ায় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে বলে জানিয়েছে। এদিকে বিদেশফেরত যাত্রীদের স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষায় টার্মিনাল এলাকায় ভিড় ও অস্থিরতাও লক্ষ্য করা গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, জানুয়ারির শুরুতে শীত আরও বাড়তে পারে, যা বিমান চলাচলের সূচিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।