
টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিজের ঘর থেকে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় মুক্তা বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে উপজেলার গজারিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মুক্তা বেগম ওই এলাকার কাতারপ্রবাসী আলহাজ মিয়ার স্ত্রী।
নিহত মুক্তার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাস ছয়েক আগে আলহাজ মিয়া কাতার চলে যান। কিন্তু গত চার মাস ধরে পারিবারিক কলহের কারণে আলহাজ মিয়া তার স্ত্রীর কাছে ফোন দেননি।
মুক্তা বেগমের ফুফু জানান, স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই একে অপরকে পরকীয়ায় জড়িত বলে সন্দেহ করতেন। কয়েক দিন আগে গৃহবধূ মুক্তা বেগম ছেলের কাছ থেকে হত্যার হুমকি পেয়েছেন। আজ সকাল থেকে বাড়ির কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না; এমন খবর পেয়ে গৃহবধূ মুক্তার বাবার বাড়ির লোকজন ওই বাড়িতে আসেন। এ সময় ঘরে ঢুকে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় মুক্তা বেগমের মরদেহ পাওয়া যায়।
এদিকে ঘটনার পর থেকে মুক্তার দুই সন্তানের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী ছেলের হদিস মিলছে না। বিকেলে পার্শ্ববর্তী কালমেঘা এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাওয়া গেছে শিশুকন্যাকে।
নিহতের বাবা দানেছ আলী বলেন, ‘আমার মেয়েকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে খুন করেছে। আমি এর বিচার চাই। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
বিকেলে টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এ কে এম মামুনুর রশীদ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, রাতে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা তার ছেলের খোঁজ করছি। তাকে খুঁজে পেলেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন সহজ হবে।’