
গাজা সিটিতে যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন বহনকারী একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু রয়েছে।এ ঘটনায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১০০ জন আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানায়, রাতের বেলায় গাজা সিটির একটি সাততলা আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত হন।
ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে কাজে যোগ দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও যাচাই করা ভিডিওতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুদের সাহায্যের জন্য কান্নার শব্দ শোনা গেছে। ভিডিওতে উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শিশুদের বের করে আনতে দেখা যায়। একটি ভিডিওতে একটি ছোট মেয়েকে জীবিত উদ্ধার করতে দেখা গেছে। আরও কয়েকজনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়, যাদের মধ্যে ছোট শিশুও ছিল। কয়েকজনের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল এবং পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
গাজা সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, সিভিল ডিফেন্সের দলগুলো এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার এবং নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছে। প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি এখনো ওই ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছানো কঠিন হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, এর আগে ইসরায়েলের একটি বোমা হামলায় ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই হামলায় ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয় এবং কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে সেটিই ধসে যায়।
মাহমুদ বাসাল বলেন, অনেক ফিলিস্তিনি বাধ্য হয়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অবস্থান করছেন, যা তাদের জীবনের জন্য হুমকি। শরণার্থী কেন্দ্র বা উপযুক্ত তাঁবুর অভাবে তাদের অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই।
এ ছাড়া ধ্বংসস্তূপ নিরাপদে সরানো ও উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ভারী সরঞ্জাম প্রবেশেও কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে ভবনধসের মতো ঘটনায় উদ্ধারকর্মীদের অনেক সময় হাতে হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে জরুরি উদ্ধারকাজ আরও ধীর হয়ে পড়ছে।
সূত্র: আলজাজিরা