
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে অভিনব সব পন্থা অবলম্বন করছে মাদক কারবারিরা। তবে শেষ রক্ষা হলো না। সিরাজগঞ্জে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে খেলনা গাড়ির ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। উদ্ধারকৃত এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাসের এক যাত্রীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলের দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দাথিয়াদিগর এলাকায় অবস্থিত পিংকি পাম্পের সামনে মহাসড়কে এই সফল অভিযানটি চালানো হয়। ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘বনফুল পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে এই তল্লাশি প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন ডিএনসির কর্মকর্তারা।
আটককৃত ওই মাদক কারবারির নাম রবিউল আলম সিদ্দিকী। তিনি দেশের অন্যতম প্রধান মাদক রুট কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ ও ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুড়িগ্রামগামী ওই দূরপাল্লার বাসটিতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সন্দেহভাজন যাত্রী রবিউল আলমের সঙ্গে থাকা মালামাল তল্লাশিকালে একটি খেলনা গাড়ির ভেতর থেকে নিপুণ কৌশলে লুকানো অবস্থায় ১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর রবিউল আলমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাকে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিনব এ কৌশলে ইয়াবার চালানটি দেশের উত্তরাঞ্চলে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল। মাদক পাচার ও ব্যবসার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।"