
বাগেরহাটের বিশ্বঐতিহ্য হযরত খানজাহান আলী (রাঃ) এর স্মৃতিবিজড়িত মাজারের দিঘি থেকে উদ্ধার হওয়া সেই কুমিরটিকে অবশেষে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরের দিকে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল এ বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, "পর্যবেক্ষণের জন্য দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে কুমিরটিকে খুলনা পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। বন অধিদপ্তর, বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের একটি যৌথ দল বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সহায়তায় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনায় পাঠিয়েছে।"
তিনি আরও জানান, "খুলনা পুনর্বাসন কেন্দ্রে ৪ থেকে ৭ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর কুমিরটিকে কোথায় রাখা হবে সে বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।"
হস্তান্তরের এই বিশেষ মুহূর্তে সেখানে উপস্থিত ছিলেন খুলনার বন সংরক্ষক ইমরান খান, বন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।
পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বুধবার সকালের দিকে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টিম কুমিরটিকে দিঘি থেকে উদ্ধার করে। এরপরই সেটিকে খুলনার উদ্ধার কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, উদ্ধারকারী দলটি প্রথমে কুমিরটির গতিবিধি ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করে। পরবর্তীতে সেটিকে বাগে আনার কৌশল, স্থানান্তরের উপযুক্ত সময়সহ সব ধরনের কারিগরি বিষয় খতিয়ে দেখে এ পদক্ষেপ নেয়।
এর আগে, মাজারের দিঘির এই কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাগেরহাট জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। মাজার প্রাঙ্গণে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মূলত এই সভার আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার রাত ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই জরুরি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন।
মিটিং শেষে জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, "সাম্প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনার পর মাজার এলাকার দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুকুর থেকে কুমিরটিকে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে, মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
প্রসঙ্গগত, গত সোমবার রাত ৮টার দিকে মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নেমে ফাতেমা আক্তার নামে ৮ বছরের এক শিশু কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রকাণ্ড কুমিরটি আকস্মিকভাবে শিশুটির পা কামড়ে ধরে পানির গভীরে টেনে নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে, মঙ্গলবার ভোররাতে মাজারের দিঘির মহিলা ঘাট এলাকা থেকে ওই শিশুর নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই বেদনাদায়ক ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্ত-দর্শনার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছিল।