
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে কোরবানির পশুর হাটে একটি উন্মত্ত মহিষের আকস্মিক আক্রমণে গুরুতর আহত মজিবুর রহমান (৮০) নামের আরও এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার (২৫ মে) বিকেলে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এ নিয়ে ওই মহিষের তাণ্ডবে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুইজনে।
নিহত মজিবুর রহমান দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানান্দবাড়ী এলাকার চর মাদার গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে।
এর আগে গত রবিবার (২৪ মে) উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সানান্দবাড়ী কোরবানির হাটে মহিষের আক্রমণে রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান। সেই একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বৃদ্ধ মজিবুর রহমান।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার স্থানীয় আকন্দপাড়া গ্রামের এক খামারি বিক্রির উদ্দেশ্যে একাধিক মহিষ নিয়ে সানন্দবাড়ী পশুর হাটে আসেন। কিন্তু হাটে প্রবেশের পরপরই আচমকা একটি মহিষ বিগড়ে গিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। একপর্যায়ে দড়ি ছিঁড়ে মহিষটি হাটের ভেতর উন্মত্তভাবে ছোটাছুটি করতে থাকে এবং সামনে থাকা মানুষদের ওপর আক্রমণ চালায়। মহিষের তাণ্ডব থেকে বাঁচতে হাটের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও আতঙ্ক তৈরি হয়।
মহিষের এই শিংয়ের গুঁতো ও আক্রমণে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার জাউনিয়ার কড়াইডাঙ্গীপাড়া গ্রামের রুহুল আমীনসহ অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হন। এর মধ্যে রুহুল আমীনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান। অন্যদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মজিবুর রহমানকে প্রথমে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার্ড) করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বিকেলে তিনি মারা যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, “মহিষের আক্রমণে গুরুতর আহত বৃদ্ধ মজিবুর রহমান জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে সানন্দবাড়ী হাটের ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দুইজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলো। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।”