
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণী এই রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ডি কে শিবকুমার।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে বেঙ্গালুরুর লোক ভবনের ঐতিহ্যবাহী গ্লাস হাউসে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট তাঁকে গোপনীয়তা ও পদের শপথ বাক্য পাঠ করান। একই মঞ্চে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জি পরমেশ্বর।
কণকপুরা নির্বাচনী এলাকা থেকে টানা আটবার বিধানসভা সদস্য (বিধায়ক) নির্বাচিত হওয়া ডি কে শিবকুমার গত শনিবার (৩০ মে) কংগ্রেসের বিধায়ক দল ও শীর্ষ নেতৃত্বের যৌথ বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে দলনেতা নির্বাচিত হন। ওই বৈঠকের পরেই মূলত তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
কর্ণাটকের রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ চলা অভিজ্ঞ এই জননেতা ২০২০ সালে কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতির শীর্ষ পদে আসীন হন। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হটিয়ে কংগ্রেসের যে বিপুল ও ল্যান্ডস্লাইড বিজয় এসেছিল, তার নেপথ্যের মূল কারিগর ও কাণ্ডারি হিসেবে বিবেচনা করা হয় এই ডি কে শিবকুমারকে।
বুধবারের এই রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও ১২ জন কংগ্রেস নেতা মন্ত্রিসভার পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া অন্য সদস্যরা হলেন—কে এইচ মুনিয়াপ্পা, কে জে জর্জ, এম বি পাতিল, সতীশ জারকিহোলি, প্রিয়াঙ্ক খাড়গে, কৃষ্ণ বাইরে গৌড়া, রামলিঙ্গা রেড্ডি, ইউ টি খাদের, ঈশ্বর খন্দ্রে, বাইরাথি সুরেশ, ড. শরণ প্রকাশ পাতিল এবং ইয়াথীন্দ্র সিদ্দারামাইয়া।
এর আগে, গত ২৮ মে কর্ণাটকের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দেন। পদত্যাগের পর তিনি গণমাধ্যমকে জানান, কংগ্রেস হাইকমান্ডের বিশেষ অনুরোধ রক্ষা করতেই তিনি স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে দিয়েছেন, যাতে ডি কে শিবকুমারকে রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার সুযোগ করে দেওয়া যায়।
কর্ণাটকের এই রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ক্ষমতা হস্তান্তরকে সাধুবাদ জানিয়েছেন হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু। ডি কে শিবকুমারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, শিবকুমার দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছেন এবং তিনি আগের সরকারের নীতিগুলো এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
এদিকে, সদ্য বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার পুত্র ইয়াথীন্দ্র সিদ্দারামাইয়ার নামটিও উপমুখ্যমন্ত্রী পদের রেসে বেশ জোরেশোরে আলোচনায় এসেছিল। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ইয়াথীন্দ্র পরে সাংবাদিকদের জানান, মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়াই তার জন্য বড় দায়িত্ব এবং দল যে দায়িত্ব দেবে, সেটিই তিনি পালন করবেন।
বেঙ্গালুরুর এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি মূলত কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেতৃত্বের এক বড় মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালসহ সর্বভারতীয় ও রাজ্য স্তরের প্রথম সারির অসংখ্য নেতা। উল্লেখ্য, শপথের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার ঠিক আগে ডি কে শিবকুমার রাজ্যের বিভিন্ন মঠ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রধানদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের আশীর্বাদ ও দোয়া নেন।
সূত্র: এনডিটিভি