
বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান ‘বাইটড্যান্স’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ঝ্যাং ইমিংয়ের সম্পদ ও সুনামের মুকুটে যুক্ত হলো নতুন এক পালক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশ এবং বাইটড্যান্সের বাজারমূল্য হু হু করে বাড়তে থাকায় তিনি ভারতের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানিকে ছাড়িয়ে গেছেন। এর মধ্য দিয়ে ঝ্যাং ইমিং এখন এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ব্যক্তির আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঝ্যাং ইমিংয়ের নিট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৯২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এই বিপুল পরিমাণ পুঁজির ওপর ভর করে তিনি কেবল এশিয়ার দ্বিতীয় স্থানটিই দখল করেননি, বরং চীনের এক নম্বর ধনী ব্যক্তি হিসেবে নিজের অবস্থানকে আরও বেশি সুসংহত করেছেন।
২০১৯ সালে ব্লুমবার্গ যখন প্রথমবারের মতো ঝ্যাং ইমিংয়ের ব্যক্তিগত অর্থ ও সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে এনেছিল, তখন তাঁর মোট প্রতিপত্তির পরিমাণ ছিল মাত্র ১৩ বিলিয়ন ডলার। এর পর মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তাঁর সম্পদের খতিয়ান সাত গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবিশ্বাস্য প্রবৃদ্ধি বিশ্ব প্রযুক্তি খাতের দ্রুত উত্থান এবং বাইটড্যান্সের জয়জয়কারের এক জাজ্বল্যমান প্রমাণ।
অন্য দিকে, ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মুকেশ আম্বানির মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৮৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। ফলে তিনি এশিয়ার ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে নেমে গেছেন। তবে এই মহাদেশের এক নম্বর ধনকুবের হিসেবে নিজের শীর্ষস্থানটি এখনো ধরে রেখেছেন ভারতের আরেক ব্যবসায়ী গৌতম আদানি, যাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১১৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।
ঝ্যাং ইমিংয়ের এই আকাশচুম্বী অর্থ বৃদ্ধির পেছনে বিশ্বজুড়ে টিকটকের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বাইটড্যান্সের নিজস্ব উদ্ভাবন এআই চ্যাটবট ‘ডৌবাও’ (Doubao) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে কেবল চীনেই এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্মটির প্রতি মাসের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০ কোটিরও বেশি, যা একে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় চ্যাটবটে রূপান্তর করেছে।
তা ছাড়া, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে টিকটকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের এক সুরাহা হয়েছে। বাইটড্যান্স তাদের আমেরিকান ব্যবসার একটি নির্দিষ্ট অংশ সে দেশেরই নামী বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তর করেছে। এর ফলে কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ আর্থিক ঝুঁকির আশঙ্কা অনেকাংশেই কেটে গেছে এবং বিশ্ববাজারের বড় বড় বিনিয়োগকারীদের মাঝে নতুন করে আস্থা ফিরে এসেছে।
ব্ল্যাকরক, ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস এবং টি. রো প্রাইস গ্রুপের মতো শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বাজার মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে ঝ্যাং ইমিংয়ের ব্যক্তিগত সম্পদ এক ধাক্কায় ২৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়ে গেছে।
বেইজিংভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের গবেষণায় বিপুল পুঁজি বিনিয়োগ করছে। চীনের অভ্যন্তরীণ এআই বাজারে নিজেদের একচ্ছত্র নেতৃত্ব ধরে রাখতে এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে মার্কিন টেক জায়ান্টগুলোর সঙ্গে সমানতালে টক্কর দিতে প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার খরচের এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ধোঁয়াশা কেটে যাওয়ার কারণে বাইটড্যান্সের প্রকৃত বাজারমূল্য এখন পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে, যা কোম্পানিটির আগামী দিনের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করে তুলল।