
রাজধানীর স্বয়ংক্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক (AI) ট্রাফিক সিগন্যাল নজরদারি ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট ঢেকে চলাচল করা সেই চালককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। প্রযুক্তির চোখ এড়ানোর এই অভিনব জালিয়াতির দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এক মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম লাভলু হক (৩৮)। তিনি রাজধানীর লালবাগ এলাকার বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৯ মে ওই ব্যক্তি মোটরবাইকের নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট (সংখ্যা) ঢেকে রাজধানীর সড়কে চলাচল করছিলেন। পরবর্তীতে সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ২১ মে ডিএমপির নজরে আসে। এ ধরনের প্রতারণামূলক কৌশল যাতে অন্য চালকরা অনুসরণ করতে না পারে, সেজন্য বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
আনিছুর রহমান বলেন, "ছবিতে চালকের মুখ স্পষ্ট দেখা না যাওয়ায় তাকে শনাক্ত করা সহজ ছিল না। তদন্তকারীদের জন্য কাজটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে একই ধরনের মোটরসাইকেলগুলো খুঁজে বের করা হয়। এরপর আংশিক দৃশ্যমান নম্বরপ্লেটের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গতকাল (১ জুন) অভিযুক্ত লাভলু হককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।"
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, "আমরা উন্নত বিশ্বের মতো একটি স্বয়ংক্রিয় ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু কেউ যদি প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে এক মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও দেন।"
তিনি আরও যোগ করেন, ডিএমপির উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং মানুষকে সচেতন করা। তবে কেউ আইন ভঙ্গ করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের নাগরিকদের সঙ্গে সর্বোচ্চ ভদ্র আচরণ করার পাশাপাশি আইন প্রয়োগে কঠোর থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার নগরবাসীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, নতুন এআই ট্রাফিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত মানিয়ে নিচ্ছেন। পুলিশের ধারণা ছিল এই পরিবর্তন আনতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে, কিন্তু মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই সড়কে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমনকি সদ্য সমাপ্ত ঈদের ছুটিতে যখন সড়কে যানবাহনের চাপ কম ছিল, তখনও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলেছেন, যা একটি সুশৃঙ্খল নগরী গড়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।