
দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে টানাপড়েনের মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান। একই দিনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রোববার (২৪ মে) অধ্যাপক জুবায়দুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবরও সামনে আসে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। এর মধ্যেই চেয়ারম্যান দেড় মাসের ছুটিতে বিদেশে যান। একই সময়ে এমডি ওমর ফারুক খানকেও ছুটিতে পাঠানো হয়। গত ১২ এপ্রিল পরিচালনা পর্ষদের সভায় সেই ছুটি অনুমোদন করা হয়েছিল।
রোববার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক ডাকা হলে সেখানে কিছু গ্রাহক ও কর্মকর্তাকে অবস্থান নিয়ে চেয়ারম্যান ও এমডির পদত্যাগ দাবি করতে দেখা যায়। পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদত্যাগপত্র পাঠান।
ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, এমডি ওমর ফারুক খানও নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে নির্ধারিত বোর্ডসভা বাতিল হওয়ায় সেটির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হোসেনসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকে তলব করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমানকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরে তিনি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়।
২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার অবনতি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে যেখানে মুনাফা ছিল প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ১৩৭ কোটি টাকায়। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হারও কয়েক গুণ বেড়ে প্রায় ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। বর্তমানে ৯২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে।
শেয়ার কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে এস আলম গ্রুপসংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ শেয়ার জব্দ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডির একসঙ্গে পদত্যাগের ঘটনায় ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।