
দীর্ঘ ৩৫ বছরের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রত্যাশার পর এবার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করল সোমালিল্যান্ড। দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সফরে ইসরাইল গেছেন, যা সোমালিল্যান্ডের কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময় এই সফর অনুষ্ঠিত হলো যখন মাত্র ছয় মাস আগে ইসরাইল বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডের স্বাধীনতাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই স্বীকৃতি দুই পক্ষের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
সফরকালে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে এসেছি। ৩৫ বছর ধরে আমরা বিশ্বের কাছে আমাদের স্বীকৃতি চাইছি। ইসরাইল এবং আপনি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের প্রথম দেখেছেন এবং স্বীকৃতি দিয়েছেন।’
জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলের এই অবস্থানের পেছনে তাদের নিজস্ব ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা কাজ করেছে।
তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য স্বাভাবিক একটি বিষয়। আমরা ইহুদি জাতি হিসেবে মনে করি, একটি ছোট জাতি হিসেবে আমরা বিশ্ব থেকে আমাদের অধিকার স্বীকৃতি চেয়েছি। তাই আপনাদের প্রতি আমাদের স্বাভাবিক সহানুভূতি রয়েছে।’
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ইসরাইল ও সোমালিল্যান্ডের মধ্যে একটি কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক কৌশলগত বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমালিল্যান্ড এই সম্পর্ককে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে নিজেদের কৌশলগত উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী ইসরাইল।
বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরকেন্দ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন ঘিরে চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে দুই দেশের এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।