
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াতের আমিরের সাক্ষাৎ এবং ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার গঠনের বক্তব্যকে ঘিরে ইসলামী আন্দোলনের ভেতরে প্রশ্ন ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতা মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
তিনি বলেন, জামায়াতের আমির জাতীয় সরকার এবং খালেদা জিয়ার উদ্যোগে গড়ে ওঠা ঐক্যের পাটাতনের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে সেই পাটাতন আগেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন সেটি পুনরুদ্ধারের কথা বলায় প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে—জামায়াত কি জাতীয় পার্টির মতো ভূমিকা নিতে চায়? জাতীয় পার্টি যেমন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারেও ছিল আবার বিরোধী দলেও ছিল, তেমন কোনো জাতীয় রাজনৈতিক ডিজাইনে কি তারা এগোচ্ছে—এ নিয়েও আমাদের মধ্যে শঙ্কা আছে।
জামায়াতের জোটে বিভাজন বিএনপিকে সুবিধা দেবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এতে কেউ সুবিধা পেলে তা স্বাভাবিক; তবে এর দায় ইসলামী আন্দোলনের নয়। নতুন করে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, বিএনপি তাদের জোট ও রাজনৈতিক কৌশল ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করেছে।
ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে কি না—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাউকে বাদ দেওয়া বা জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে ন্যূনতম সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাবে ইসলামী আন্দোলন।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা জটিল হয়ে ওঠায় নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের সম্ভাবনার কথাও জানান মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ভোট অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। এই সময়ের মধ্যে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। ইসলামী আন্দোলনের প্রতি যাদের শ্রদ্ধা ও আস্থা রয়েছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে ইসলামী আন্দোলনের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতৈক্য না হওয়ায় জোটের ১১ দলের প্রার্থী ঘোষণা সংক্রান্ত পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামী আন্দোলন ৫০টি আসন দাবি করলেও জামায়াত ৪০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি না হওয়ায় সমঝোতা আটকে যায়। আসন সমঝোতায় সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে গাজী আতাউর রহমান বলেন, চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত বা অবহেলার রাজনীতি ইসলামী আন্দোলন গ্রহণ করবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভিত্তিতেই সমঝোতা হতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দল তিনশ আসনেই নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত বলে প্রচার করছে, যা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।
তিনি আরও বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই সবকিছু চূড়ান্ত হবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের সব স্তরের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, মাঠপর্যায়ের তথ্য এবং প্রার্থীদের মতামত নেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে আজ দলের মজলিসে আমেলার বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গাজী আতাউর রহমান জানান, ‘ওয়ান বক্স’ নীতির আওতায় ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা কেমন হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।