
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও জাতীয় পরিচয়ের মূল ভিত্তি।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে উপজেলার নন্দিয়াপাড়ায় জাদুঘর পরিদর্শন শেষে এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অসম্মান বা ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। এ ধরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনে গণ-আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে আমরা হৃদয়ে ধারণ করি। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল যদি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে বা মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করতে চায়, তাহলে দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সোচ্চার থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন হলেও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে খাটো করার সুযোগ নেই।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলনের চেতনাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। তবে দেশের জনগণ সচেতন এবং গণতন্ত্রের প্রতি তাদের আস্থা অটুট রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয় এবং ছাত্রসমাজসহ সাধারণ মানুষের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
গণতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়া উচিত।
গণ-অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে এসেছে। গুম, খুন ও নির্যাতনের মধ্যেও জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের দাবি থেকে সরে যায়নি। এসব আন্দোলন পরবর্তী গণআন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এ টি এম মোশারেফ হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধারা।