
ইরানের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অবস্থানের সমালোচনা করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ইরানেরও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রাখার অধিকার রয়েছে। এক্ষেত্রে শুধু তেহরানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের যৌক্তিকতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামাবাদ সফররত ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে শেহবাজ শরিফ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ওই চুক্তিতে ইরানের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা বা শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি যে এই সমঝোতায় ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো উল্লেখ নেই। এটি আলোচনার টেবিলে বা আলোচ্যসূচিতে কখনোই ছিল না এবং ইরানি পক্ষ এটি নিয়ে কোনো কথাও বলতে চায়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে বৈশ্বিক রাজনীতিতে দ্বৈত মানদণ্ডের সমালোচনা করে শেহবাজ শরিফ বলেন, ‘বিশ্বে কোনো ধরনের দ্ব্যর্থবোধক নীতি থাকতে পারে না, যেখানে কিছু নির্দিষ্ট দেশ ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে আর ইরান তা পারবে না। এই ধরনের কপটতা কোনোভাবেই হজম করা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও দাবি করেন, কিছু আন্তর্জাতিক পক্ষ শান্তি চুক্তির অগ্রগতি ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, এসব ‘স্পয়লার্স’ চায় না যে যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে ইরান আবার শক্ত অবস্থানে ফিরে আসুক।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক সংঘাতের পর এটিই ছিল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রথম বিদেশ সফর। গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংঘাতের অবসান ঘটে এবং সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
শান্তি উদ্যোগ সফল করতে সহায়তা করায় তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব এবং মিসরের রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি জানান, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে আগামী সপ্তাহে তেহরান সফরে যাবেন তিনি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি