
দীর্ঘ চার বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সমাধান খোঁজার লক্ষ্যে ইউক্রেন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঘোষণা করেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে শুক্রবার এবং শনিবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পর জেলেনস্কি এই ঘোষণা দেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানে যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল, এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠককে তার একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বৈঠককে একটি ‘উৎসাহব্যঞ্জক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা গ্যারান্টির শর্তাবলি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধপরে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য একটি প্রাথমিক চুক্তিও প্রায় প্রস্তুত। জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের আলোচনার পর মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার অগ্রগতি এখন কেবল একটি অমীমাংসিত ইস্যুতে সীমাবদ্ধ, যা সমাধানযোগ্য।
উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইতিমধ্যেই মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সেখান থেকে সরাসরি তারা আবুধাবিতে গিয়ে ত্রিপক্ষীয় ‘মিলিটারি টু মিলিটারি’ বা সামরিক পর্যায়ের ওয়ার্কিং গ্রুপে অংশ নেবেন।
দাভোসে জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পুতিনের প্রতি তাঁর বার্তা স্পষ্ট; ইউক্রেনের যুদ্ধ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। তবে জেলেনস্কি সতর্ক করেছেন যে, শান্তি আলোচনার পাশাপাশি ইউক্রেনের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিচার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করে বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় যুদ্ধের মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এখনও মুক্ত অবস্থায় রয়েছেন এবং তাঁর সম্পদ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় ব্যবহার করা হচ্ছে না। শান্তি আলোচনার প্রধান জটিলতা হিসেবে ধরা হচ্ছে ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলের ভবিষ্যত নিয়ন্ত্রণ এবং জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকানা। জেলেনস্কি এই বিষয়টি গত ডিসেম্বরেও উল্লেখ করেছিলেন।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানালেও ইউক্রেনের জন্য অব্যাহত সামরিক সহায়তার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, শান্তি আলোচনা চললেও রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এখনও বন্ধ হয়নি, তাই শান্তি খুব দ্রুত বা ‘আগামীকালই’ আসবে না।
চলতি সপ্তাহে রুশ হামলায় কিয়েভের প্রায় ৩০০০ ভবন বিদ্যুৎ ও উত্তাপহীন হয়ে গেছে, এবং ওডেসায় একটি ড্রোন হামলায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই আবুধাবিতে শুরু হতে যাওয়া প্রথম ত্রিপক্ষীয় বৈঠক বিশ্ববাসীকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশা দেখাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা