
সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব নিয়ে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানালেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন মাহমুদ হারুন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবার মতামত ধৈর্য ধরে শুনছেন এবং কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছেন না।
মঙ্গলবার ১৭ মার্চ দুপুর প্রায় পৌনে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে আশিক চৌধুরী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আগে তার কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও গত এক মাসে বিভিন্ন আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক এবং একান্ত পর্যালোচনা বৈঠকে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছে। এই সময়ের অভিজ্ঞতায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের কিছু বৈশিষ্ট্য তাকে আশাবাদী করেছে বলে জানান তিনি।
তিনি লিখেছেন, ‘প্রথমত, হি ইজ আ গুড লিসেনার। উনি সবার কথা ধৈর্য ধরে শুনছেন। কাউকে কিছু চাপিয়ে দিচ্ছেন না। দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী রেজাল্ট ওরিয়েন্টেড আলোচনা করছেন। আপনার এই উদ্যোগে কী ফল পাওয়া যাবে এবং কত দ্রুত পাওয়া যাবে’, সবাইকে এসব প্রশ্ন করছেন। এবং তৃতীয়ত, উনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সমায়নুবর্তিতা, শিষ্টাচার, অনাড়ম্বর মানসিকতা এসব নিজে চর্চা করছেন।’
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে। এর আগে থেকেই সরকারি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিমূলক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার কারণে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ নিম্নমুখী হওয়ায় দেশীয় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে জানান আশিক চৌধুরী। পাশাপাশি সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এই প্রেক্ষাপটে ২৫টি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সরকারি বন্ধ ও রুগ্ন শিল্পকারখানা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে বেসরকারিকরণ, ফ্রি ট্রেড জোন ও সমরাস্ত্র শিল্প নীতিমালা প্রণয়ন, বিকল্প জ্বালানির উৎস খোঁজা, বন্দরগুলোতে আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু করে দুর্নীতি কমানো ও সময় হ্রাস, প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রাইভেট সেক্টর অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল গঠন, ব্যবসা সংক্রান্ত সরকারি সেবার জন্য একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাবিজ’ সম্প্রসারণ এবং কোরিয়া-বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট সম্পন্ন করা।
তিনি জানান, আগামী ছয় মাস শেষে এসব উদ্যোগের অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
পোস্টের শেষে কিছু ব্যক্তিগত মন্তব্যও যুক্ত করেন আশিক চৌধুরী। তিনি লেখেন, ‘আমার কার্টুনিস্ট ফ্যানদের জন্য সুখবর। আমি সামনেও প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দেবো। প্রধানমন্ত্রী হাসি মুখে হাত-পা না ভাঙার শর্তে অনুমতি দিয়েছেন।’
আরেকটি মন্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কোনো সেলফি নেই। প্রতিবারই এত কাজের মাঝে ছবি তোলা হয়ে ওঠে না।’
উক্ত ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি ফটোকার্ডও শেয়ার করা হয়েছে।