
আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ ঘিরে যখন বিদায়ের আবহ, তখন একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থ নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। ৩৪ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের কথায় মিলেছে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাওয়ার আভাস।
গত ৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। তবে দেশের সমর্থকদের সামনে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিতে আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) জানিয়েছে, ওই ম্যাচটিই হবে জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ উপস্থিতি।
মেসির বিদায়ী ম্যাচকে সামনে রেখে আর্জেন্টিনা দলে এরই মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেছেন তাগলিয়াফিকো। সোমবার স্থানীয় সময় সকালে বুয়েনস এইরেসের এজেইজা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “ক্যারিয়ারের শেষ ভাগে পৌঁছে গেছি। তাই যতটুকু সম্ভব প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কখন শেষ সময় এসে যাবে, কেউ জানে না।”
মেসির বিদায় প্রসঙ্গে আবেগ প্রকাশ করে তাগলিয়াফিকো বলেন, “এ ধরনের বিদায় সবসময়ই কঠিন। কিন্তু বাস্তবতাকে মেনে নিতেই হবে। আজ হোক বা কাল, এই দিন আসতই। ম্যারাডোনার বিদায়ের পর যেমন আর্জেন্টিনা ফুটবল আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, মেসির পরও আমাদের শক্তিশালী থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কে টানা দুই দশক দলে পেয়েছি। এখন সামনে কী আসছে, তার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। দল হিসেবে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যেতে হবে। বিষয়টা মেনে নেওয়া সহজ নয়, কিন্তু আমাদের সামনে এগোতেই হবে।”
২০১৭ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে অভিষেকের পর রক্ষণভাগে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তাগলিয়াফিকো। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশেও ছিলেন তিনি। এছাড়া ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা এবং ফাইনালিসিমা জয়ের দলেও ছিলেন এই লেফট-ব্যাক।
এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে ৮৩ ম্যাচ খেলেছেন তাগলিয়াফিকো, গোল করেছেন একটি। মেসির সঙ্গে একই প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও তাই তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
৬ অক্টোবরের বেনিন ম্যাচটি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য মেসিকে বিদায় জানানোর বিশেষ উপলক্ষ হতে যাচ্ছে। AFA জানিয়েছে, ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যদেরও ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে ম্যাচটি শুধু মেসির বিদায় নয়, আর্জেন্টিনার সোনালি প্রজন্মের স্মৃতিচারণেরও একটি বড় উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে।