.png)
আর্কটিক অঞ্চলের কূটনৈতিক ও সামরিক প্রতিযোগিতা সম্প্রতি আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার দাবি বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। যদিও গ্রিনল্যান্ড মূলত ডেনমার্কের অধীনে, তবু আর্কটিকের দীর্ঘ দিনের প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে আর্কটিকের প্রাধান্য রাশিয়ার দখলে রয়েছে। আর্কটিক সার্কেলের উত্তরাংশের প্রায় অর্ধেক ভূমি ও সমুদ্রসীমা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশই রাশিয়ান, এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির দুই-তৃতীয়াংশ রাশিয়ার আধিপত্যে। সামরিকভাবে এই অঞ্চলে রাশিয়ার শক্তি অত্যন্ত প্রভাবশালী। সিমন্স ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আর্কটিকের ৬৬টি বড় সামরিক ঘাঁটির মধ্যে রাশিয়ার রয়েছে ৩০টি।
রাশিয়ার সাম্প্রতিক বছরের আধুনিকীকরণের উদ্যোগে পারমাণবিক সাবমেরিন, রাডার, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা উন্নত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ১৯৯৬ সালে আর্কটিক কাউন্সিলের মাধ্যমে রাশিয়াকে অন্যান্য সাতটি আর্কটিক দেশের সঙ্গে সহযোগিতার পথে নিয়ে আসা হলেও ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া এবং ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর সেই সহযোগিতা বন্ধ হয়ে গেছে।
ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটো যোগদানের পর আর্কটিক কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে—একটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে, অন্যটি ন্যাটোর। ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, মার্কিন নিরাপত্তার জন্য এটি অপরিহার্য, এবং ডেনমার্ক যথেষ্ট শক্তিশালী নয় এটি রক্ষা করতে।

চীনের আগ্রহও স্পষ্ট। ২০১৮ সালে চীন নিজেকে ‘নিয়ার-আর্কটিক’ রাষ্ট্র ঘোষণা করেছে এবং পোলার সিল্ক রোড উদ্যোগ শুরু করেছে। ২০২৪ সালে চীন ও রাশিয়া যৌথ আর্কটিক পেট্রোল চালু করেছে, যা সামরিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার অংশ।
আর্কটিকের গুরুত্ব কেবল কূটনৈতিক বা সামরিক নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চল বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে চারগুণ দ্রুত গরম হচ্ছে। সমুদ্র বরফ কমে যাওয়ায় নর্দার্ন সি রুট এবং নর্থওয়েস্ট প্যাসেজ প্রায় বরফমুক্ত হয়ে গেছে, যা এশিয়া-ইউরোপের জাহাজপথের সময় প্রায় অর্ধেক কমিয়েছে। এছাড়াও গ্রীনল্যান্ডে কয়লা, তামা, স্বর্ণ, বিরল খনিজ এবং জিঙ্কের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও কঠিন পরিবেশ ও বরফচাদরের কারণে খনন ব্যয়বহুল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড আগ্রহ মূলত নিরাপত্তা নয়, বরং প্রাকৃতিক সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্কটিক কেবল ভূ-রাজনৈতিকই নয়, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকেও ২১ শতাব্দীর একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।