
বিচারব্যবস্থাকে জনগণের আস্থার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আদালত কোনোভাবেই হয়রানির স্থান হতে পারে না।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচারকদের ভূমিকাই মুখ্য। ফ্যাসিবাদী আমলে বিচার ব্যবস্থা দলীয়করণ করা হয়েছিল। ফ্যাসিবাদী আমলে রাতের আধারে আদালত বসিয়ে আইনের নামে বেআইনি শাসন চালানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আদালত হয়রানির জায়গা নয়। মানুষের আস্থার জায়গা। ইবেইল বন্ডের মাধ্যমে জামিনে হয়রানি বন্ধ হবে।’
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার পর জনগণের ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির পর জনগণের ভোটে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। মানুষ রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। সময়ের দাবি, যেন আর ফ্যাসিবাদ চেপে না বসে। আইন, বিচার ও শাসন সমন্বয় করতে পারলে গণতান্ত্রিক অধিকারের সুফল মিলবে।’
অনুষ্ঠানে বগুড়া কোর্ট ভবন নির্মাণে ১৫ লাখ টাকা এবং লাইব্রেরির জন্য বই কেনায় ৫ লাখ টাকা—মোট ২০ লাখ টাকা সরকারি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে তিনি বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবনের ফলক উন্মোচন করেন এবং একই স্থানে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলকও উন্মোচন করেন তিনি, যার মাধ্যমে ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়।
সফরের অংশ হিসেবে প্রায় দুই দশক পর তিনি গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামের পৈতৃক বাড়িতে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে দ্বিতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন এবং নশিপুর ইউনিয়নের চৌকিরদহ খাল খনন কার্যক্রমের সূচনা করবেন তিনি।
পরে পৈতৃক ভিটা পরিদর্শন শেষে বগুড়া শহরে ফিরে ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।