
আগামী বছরের (২০২৭) প্রথম দিক থেকেই ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সকল স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং এখানে দলীয় পরিচয়ে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।
গতকাল বুধবার রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে 'বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন' আয়োজিত ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তৃণমূল জনপ্রতিনিধি ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ভোটাধিকার ও স্থানীয় সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী বছরের শুরুতেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে অবাধ প্রতিযোগিতা হবে এবং বিএনপি, জামায়াত কিংবা অন্য যেকোনো দলই হোক না কেন—দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কেউ বাড়তি কোনো ছাড় পাবে না। জনপ্রতিনিধিদের কেবল জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি কার্যকর গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হলো শক্তিশালী স্থানীয় সরকার। স্থানীয় সরকারব্যবস্থা মজবুত না হলে রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র কখনোই সুদৃঢ় হতে পারে না। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড, স্থানীয় বিচারিক ব্যবস্থা এবং নাগরিক সেবার সিংহভাগই স্থানীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশেও ঠিক সেই ধরনের প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধিদের পাশ কাটিয়ে কেবল সরকারি আমলাদের দিয়ে স্থানীয় সরকার পরিচালনা করলে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে না। তাই সকল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা জরুরি। ফ্যামিলি কার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ভাতা বিতরণে স্থানীয় প্রতিনিধিদের যুক্ত করলে প্রকৃত দুস্থদের সনাক্তকরণ সহজ হবে এবং কাজে স্বচ্ছতা আসবে।
মাঠপর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী ভাতা অপ্রতুল উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন:
"আমি নিজেও পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম। মাঠ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সমস্যা আমি জানি। তাদের ভাতা সম্মানজনক পর্যায়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।"
বক্তব্যের শেষভাগে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মের নামে দেশকে বিভক্ত করার রাজনীতি জাতির জন্য কখনোই সুফল বয়ে আনে না। তাই ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই মূলনীতিকে পাথেয় করে সবাইকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।