
পবিত্র ওমরাহ পালন করতে গিয়ে সুদূর সৌদি আরবের মাটিতে দীর্ঘ তিন বছর ধরে গুরুতর অসুস্থ ও মানবেতর জীবন কাটানো বাংলাদেশি নাগরিক হেদায়েতুল ইসলামের পাশে দাঁড়িয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। সদ্য পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরেই আজ রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই ওমরাহযাত্রীকে দেখতে যান মন্ত্রী। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের সাথে রোগীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে রোগীর স্বজনদের সুবিধার কথা চিন্তা করে তাঁকে ফেনী সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের দ্রুত ব্যবস্থা করেন মন্ত্রী।
দীর্ঘ প্রবাস-জীবন ও চরম শারীরিক-আর্থিক সংকটের পর অবশেষে নিজ দেশে ফিরতে পেরেছেন ফেনী জেলার বাসিন্দা ৭৪ বছর বয়সী বৃদ্ধ হেদায়েতুল ইসলাম। দেশে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এই বৃদ্ধের করুণ পরিস্থিতির কথা জানতে পারেন এবং তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিশেষ উদ্যোগ নেন। সৌদি সরকারের সাথে সফল কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে চলতি বছরের ১৩ মে তাকে রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে দেশে এনে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
পারিবারিক ও প্রশাসনিক নথিসূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে পবিত্র সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন হেদায়েতুল ইসলাম। তবে সেখানে অবস্থানকালেই তিনি হঠাৎ গুরুতর ও জটিল রোগে আক্রান্ত হন এবং দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন। একপর্যায়ে তিনি তীব্র আর্থিক অনটন ও শারীরিক চরম সংকটে পড়ে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করছিলেন।
পরবর্তীতে ধর্মমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে এই মানবিক বিষয়টি আমলে নেন এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে বিশেষ আলোচনা করে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত আনার সব বন্দোবস্ত করেন। ঢাকায় পৌঁছানোর পরপরই তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি তাঁর চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহনে আর্থিক অনুদান প্রদান এবং চিকিৎসকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে আসছিলেন মন্ত্রী।
হজ পর্ব শেষ করে দেশে পা রাখামাত্রই ধর্মমন্ত্রী সরাসরি ঢাকা মেডিকেল কলেজে ছুটে যান হেদায়েতুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে তিনি রোগীর সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত আপডেট শোনেন।
এরপর রোগীর পরিবারের যাতায়াত সুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে তাঁকে তাঁর নিজ এলাকার ফেনী সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রশাসনিক নির্দেশ দেন ধর্মমন্ত্রী। মন্ত্রীর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।
বিদেশে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হেদায়েতুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাঁর সুচিকিৎসার এমন মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য ধর্মমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার। স্বজনেরা জানান, দীর্ঘদিন পরবাসে নিঃসঙ্গ ও অসুস্থ অবস্থায় কাটানোর পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে যেভাবে সরকারি খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা ও নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে, তাতে তারা পরম স্বস্তি পেয়েছেন।
এই মানবিক উদ্যোগের বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, "হেদায়েতুল ইসলাম দীর্ঘদিন সৌদি আরবে অসুস্থ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। বিষয়টি জানার পর আমি তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে তার চিকিৎসা ও সুস্থতার বিষয়টি আমাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। সৌদি সরকারের সহযোগিতায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে এবং আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমি তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।"