
অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তির সুর শোনা গেলেও ভিতরে এখনো নড়বড়ে অবস্থা রয়ে গেছে—এমনই সতর্ক বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে গেলেও বড় ধরনের ভঙ্গুরতা পুরোপুরি দূর হয়নি।
গভর্নরের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক খাতে যে নজিরবিহীন অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে, তা একদিনে ঠিক করা সম্ভব নয়। পুরো ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক ধারায় ফেরাতে সময় লাগবে। সংকট উত্তরণ এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধি জোরদার করতে নবগঠিত সরকারের প্রতি দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কার্যকর ও সাহসী উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, সরকার ৭ শতাংশে মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনার চেষ্টা চালালেও এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বাজারকে স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে আরও সময় প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু করা সংস্কার কার্যক্রম নবনির্বাচিত সরকার পূর্ণ গতিতে এগিয়ে নেবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি বিশ্বাস করেন।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে অবশ্য ইতিবাচক বার্তা দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান। তাঁর মতে, চলতি মাসেই রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে। শুধু তাই নয়, বছর শেষ হওয়ার আগেই রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলেও পূর্বাভাস দেন তিনি। এতে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তি বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশ্বস্ত করেন গভর্নর।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং খেলাপি ঋণ আদায় নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আজ বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেও বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও রিজার্ভ বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
সঠিক নীতি গ্রহণ ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. আহসান এইচ মনসুর।