
লাইসেন্স ছাড়া পেমেন্ট এগ্রিগেটর হিসেবে কার্যক্রম চালানো ২২টি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
একই সঙ্গে অনুমোদনহীন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঋণ নেওয়া কিংবা বিনিয়োগের প্রলোভনে অর্থ পাঠানো থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
লাইসেন্স ছাড়া পেমেন্ট সেবা শাস্তিযোগ্য
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪-এর ৪(২) ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি পরিশোধ ব্যবস্থা পরিচালনা কিংবা পরিশোধ সেবা দিতে পারে না। একই আইনের ৩৭(১) ধারায় এমন কর্মকাণ্ডকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট অনলাইনে এমন ২২টি প্ল্যাটফর্মের সন্ধান পেয়েছে, যেগুলো কোনো অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট এগ্রিগেটর সেবা দিচ্ছে। এসব কার্যক্রমকে অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে লেনদেন বা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ না নিতে সবাইকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শনাক্ত হওয়া প্ল্যাটফর্মগুলো হলো—বহুদূর পে, জিনিপে, পে-টিলার, বেঙলি পে, পেওরা বিডি, সহজপে বিডি, ইজিপে ওয়ে, একে পে, বিডি পে, সাজঘর পে, আস্থা পে, উদ্যোক্তাপে, ওয়ালেটমিক্স, বিটিটি পে, ইজিপে অটোমেশন, ইউনিকপে বিডি, বিডি অটো পে, আরএইচ পে বিডি, ইজি পে, অটো পে লিমিটেড, বিশ্বস্ত এবং পিঁপড়াপে।
বিনিয়োগ ও সহজ ঋণের প্রলোভনেও সতর্কতা
অনুমোদনহীন আর্থিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ‘crossmarket.ai’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম নিয়েও সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে অনুমোদন ছাড়া বিনিয়োগ সংগ্রহ ও আর্থিক লেনদেন পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অর্থ বিনিয়োগ বা লেনদেন করা দেশের প্রচলিত আইনে অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষ নিজেদের অজান্তেই আইনগত ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাই ‘crossmarket.ai’-সহ সব ধরনের অননুমোদিত প্ল্যাটফর্ম থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে সহজ শর্তে দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত অনুমোদনহীন ঋণ কার্যক্রম নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের নজরে এসেছে, কিছু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ঋণের আবেদনকারীদের মোবাইল ফোনের যোগাযোগের তালিকা, ছবি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে। পরে ঋণের অর্থ ফেরতের নামে চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি দেখানো, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এতে একদিকে মানুষের অর্থের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপগুলোর মধ্যে রয়েছে—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়ানজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরো, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।
ব্যক্তিগত তথ্য ও অগ্রিম টাকা দেওয়ায় সতর্কতা
বাংলাদেশে ঋণ দেওয়ার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন-বিধি ছাড়া কোনো অ্যাপ বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা বৈধ নয়। প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
গ্রাহকদের চারটি বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কোনো মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ না নেওয়া, অবৈধ ঋণ কার্যক্রমে অংশ না নেওয়া এবং অপরিচিত অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাবের তথ্য কিংবা ফোনে থাকা সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ঋণ দেওয়ার আগে কোনো অগ্রিম টাকা, প্রক্রিয়াকরণ ফি বা নিবন্ধন ফি চাওয়া হলে সতর্ক থাকার কথাও বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, অনুমোদনহীন এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কেউ প্রতারিত হলে কিংবা কোনো অনিয়মের তথ্য জানা থাকলে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ওয়েবসাইটে অভিযোগ করা যাবে। পাশাপাশি মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউ পরিচালকের দফতরেও লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।